গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের কয়েকশ শ্রমিক। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকায় কারখানার সামনে ফিডার রোড অবরোধ করে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শ্রমিকদের অবরোধ ও সড়কে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সংবাদপ্রতিবেদন
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকদের গত দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চলতি মাসের ১০ তারিখে বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে কারখানার সামনে সাধারণ ছুটির নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন নিয়ে তাদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সময়মতো বেতন না পাওয়ায় বাসাভাড়া, দোকানের বকেয়া ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। এতে অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, “চলতি মাসের ১০ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেতন না দিয়ে কারখানায় সাধারণ ছুটির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা বেতন না পেয়ে খুব কষ্টে আছি।”
সুমনা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, “প্রতিমাসেই মালিক আমাদের বেতন নিয়ে তালবাহানা করেন। রুম ভাড়া, দোকানের বাকি ও ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না। বাড়িওয়ালা রুম ছেড়ে দিতে বলছেন। মালিকের অন্য কারখানায় যদি সময়মতো বেতন দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের বেলায় এত সমস্যা কেন?” নতুনভাষা শিখুন
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
