এশিয়ান বার্তা নিউজ
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মধ্যে তিস্তা নদী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে দেশের ১২ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
সকালের তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী চার দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর অঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে তিস্তা নদী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরে বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। তবুও এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রধান নদীগুলো বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
