বিএনপির কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা হচ্ছে যেভাবে

এফ শাহাজাহান:

তত্তাবধায়ক সরকারের উসিলায় ক্ষমতায় গিয়ে সেই ব্যবস্থা বাতিল করার মাধ্যমে হাসিনা আওয়ামী লীগের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন।

ঠিক সেভাবেই গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে গাদ্দারী করছে বিএনপি। জাতির সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকতার চরম খেসারত শীঘ্রই দিতে হবে বিএনপিকে। এখন শুধু দেখার বিষয়, খাদের কিনারে থাকা বিএনপির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকবেন কে।

দেড় হাজার শহীদের জীবন আর লাখো মানুষের রক্তমাখা জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করার পরিনতি অবশ্যই ভোগ করতে হবে বিএনপিকে ।

চোরাই ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসেই জাতীয় জুলাই সনদ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা । এখন গণভোটের রায় বাতিল করে দিয়ে ‘নয়া ফ্যা.সিবাদ’ কায়েমের পথ তৈরি করছেন ।

আওয়ামী লীগও তত্তাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে গদি পেয়েছিল। ক্ষমতার জোরে সেই তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ফ্যা.সিবাদ কায়েম করে হাসিনা র.ক্তচোষা ফ্যা.সিস্টে পরিণত হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের দেখানো সেই একই পথেই হাঁটছে বিএনপি। জুলাইয়ের উসিলায় গদি পেয়ে জুলাই সনদকে ছুঁড়ে ফেলছে। গণভোটের রায় বাতিল করার মাধ্যমে নয়া ফ্যাসিবাদ কায়েম করে তারেক রহমান নিজেকে ফ্যা.সিস্টে পরিণত করতে চলেছেন।

আওয়ামী ফ্যা.সিবাদ স্থায়ী হয়েছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর। জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে বেঁচেছেন ফ্যা.সিস্ট হাসিনা। বিএনপির ফ্যাসিবাদ বেশিদিন টেকার সুযোগ পাবে বলে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই । কারণ প্রতারিত জনগণ আরেকবার ধাওয়া দেওয়ার জন্য বেশিদিন অপেক্ষ করবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। গণভোটের ফলাফল বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। যা শুধু একটি প্রশাসনিক বা আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও কৌশলগত তাৎপর্য।

এই সিদ্ধান্ত বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশ্লেষণ করতে হলে আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রায় বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে: গণতান্ত্রিক বৈধতা, জনমত, বিরোধী রাজনীতি, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল।

২০২৬ সালের এই গণভোট,যা “জুলাই সনদ” বা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-সাংবিধানিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে, গণভোটের রায় বাতিলের দু:সাহস সরাসরি গণরায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি স্বল্পমেয়াদে বিএনপিকে কিছু কৌশলগত সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এর রাজনৈতিক মূল্য অত্যন্ত বেশি চড়া হতে পারে।

গণতান্ত্রিক বৈধতা হারানো, জনমতের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, বিরোধী শক্তির পুনর্জাগরণ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আইনি জটিলতা,সব মিলিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। যা তাদেরকে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মতো গণশত্রু বানাবে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যায়: “ক্ষমতায় থাকা দল জনগণের রায়কে কতটা সম্মান করে?” এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

“জুলাই সনদ” ঘিরে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, এবং এটি দেশের রাজনৈতিক-সাংবিধানিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি নির্ণায়ক ভূমিকা রাখার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি এই গণভোটের ফলাফল বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা, বিতর্ক এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

এই সিদ্ধান্তকে একযোগে সবাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এই পদক্ষেপ কি বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করার বদলে উল্টো তাদের ভবিষ্যৎকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

গণভোট বা রেফারেন্ডাম হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তাদের মতামত প্রদান করে। এটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে জনগণের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি প্রকাশ করে।

বাংলাদেশে গণভোটের ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়, তবে যেসব গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালের এই গণভোটও সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

এমন একটি প্রেক্ষাপটে, গণভোটের ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এটি সরাসরি জনগণের ইচ্ছার ওপর হস্তক্ষেপ। এর পরিনতিতে বিএনপির সামনে যা অপেক্ষা করছে তা পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হচ্ছে।

প্রথমত : নৈতিক সংকটে পড়বে বিএনপি
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বিএনপি একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যেখানে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু গণভোটের ফলাফল বাতিলের উদ্যোগ এই ন্যারেটিভের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দ্বিতীয়ত : বিএনপির দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠবে
বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন তারা বারবার জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সেই একই দল যখন জনগণের সরাসরি দেওয়া রায়কে অগ্রাহ্য করে, তখন সেটি একটি “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা দেয়। এটা বাংলাদেশের জনগণ সবচেয়ে বেশি ঘৃনা করে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ এর নির্বাহী পরিচালক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণভোটে মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে।”গণভোট সংবিধানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এখন যা হচ্ছে, সেটি হলো জনরায় উপেক্ষা করা। এর ফলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে এবং এর মাধ্যমে আমরা মানুষের আত্মত্যাগ অস্বীকার করছি, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়ত : বিএনপির বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে জনতা ফুঁসে উঠবে
রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি অমূল্য সম্পদ। একবার এই বিশ্বাস ভেঙে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। গণভোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত বিএনপির এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জুলাই জাতীয় সরনদের সঙ্গে প্রতারণা বিএনপিকে বিশ্বাসঘাতক বানাবে। বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে জাতি আবার ফুঁসে উঠবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে, যারা নতুন ধরনের রাজনীতি প্রত্যাশা করছিল তারা বিদ্রোহী হয়ে উঠবে।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে, এটাই আমাদের মূল দাবি।’

চতুর্থত : বিএনপির ভোটব্যাংক ক্ষয়ে যাবে
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে “নিরপেক্ষ ভোটার” বা সুইং ভোটাররা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন না দিয়ে ইস্যুভিত্তিক অবস্থান নেয়।

এ প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সংসদে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি যাই করুক না কেন, এনসিপি বিশ্বাস করে “গণভোট বৈধ এবং আইনগতভাবে তার বৈধতা কখনোই বাতিল করা যাবে না”। বিএনপি এটা করলে তাদের কঠিন পরিনতি ভোগ করতে হবে।

পঞ্চমত : নিরপেক্ষ ভোটাররা প্রতিষোধ নিবে
গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ শ্রেণির ভোটারদের বিএনপির বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলবে। কারণ, তারা সাধারণত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সংবেদনশীল এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই গণভোটে হাঁ জয়যুক্ত করেছিল। জনগণের সেই স্বতস্ফুর্ত রায় বাতিল করে দিলে অবশ্যই বিএনপির নিরপেক্ষ ভোটাররা চরম প্রতিষোধ নিবে।

ষষ্ঠত : তরুণ প্রজন্মের রোষানলে পুড়তে হবে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলক বেশি। গণভোট বাতিলের মতো পদক্ষেপ তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

সপ্তমত : দলীয় কোন্দল বাড়বে
বিএনপির ভেতরেও একটি উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক অংশ রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে দলীয় ঐক্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অষ্টমত : ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনীতির পুনর্জাগরণ ঘটবে
গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি দিবে বিএনপিকে ধাওয়া দেওয়ার জন্য। আওয়ামী লীগ, জামায়াত এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি “জনগণের রায় রক্ষা” ইস্যুকে সামনে এনে বৃহৎ আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারে। এই ইস্যু জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে আবেগঘন এবং জনসম্পৃক্ত হওয়ায় খুব সহজেই বিএনপির বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের রূপ নিতে পারে।

নবমত : বিএনপি বিরোধী মহাজোট গড়ে উঠতে পারে
বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলো প্রায়ই বিভক্ত থাকে। কিন্তু গণভোটের রায় বাতিলের মতো একটি বড় ইস্যুতে তাদের মধ্যে ঐক্য গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এদের সমন্বয়ে বিএনপি বিরোধী মহাজোট গড়ে উঠতে পারে। এটি বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

দশমত : কূটনৈতিক চাপে পেড়তে হবে
বিএনপি কোন রাখঢাক ছাড়াই ভারতের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। এটা ভারতকে খুশি করলেও বাইরের অন্য শক্তিগুলো বসে থাকবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অনেকাংশে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি যখন জনরোশে পুড়তে থাকবে তখন এই শক্তিগুলোও চাপ সৃষ্টি করবে।

পশ্চিমা দেশগুলো সাধারণত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত তাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকেও বিএনপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। যা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

একাদশ : অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে
বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, পশ্চিমা বাজারের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা গণতান্ত্রিক সংকট এই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্বাদশ : আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা বাড়বে
গণভোটের ফলাফল বাতিল করা সহজ কোনো প্রক্রিয়া নয়। এটি আইনি ও সাংবিধানিকভাবেও জটিল। এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি সুপ্রিম কোর্ট গণভোটের ফলাফলকে বৈধ ঘোষণা করে, তাহলে সরকার একটি সাংবিধানিক সংকটে পড়ে যেতে পারে।

যদি গণভোটের ফলাফল সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তা বাতিল করা আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।

গণভোট বাতিল করে বিএনপি হয়তো ক্ষমতায় টিকে থাকার অশুভ শক্তিবলয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারে। কিন্তু সেটা তাদের জন্য এখন বুমেরাং হতে চলেছে। কারণ,পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনে এই সিদ্ধান্ত একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে। বিরোধীরা এটিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে পারবে।

ত্রয়োদশ : রাজনৈতিক ব্র্যান্ড ইমেজে ধ্বস নামবে
বিএনপির “গণতন্ত্রপন্থী দল” হিসেবে যে ইমেজ রয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ইমেজ পুনর্গঠন করা সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন। গণভোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোটের ফলাফল বাতিলের উদ্যোগ একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নয়,বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

এই হঠকারিতার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে বিএনপি কিছুটা কৌশলগত সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত তাদের রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিবে। গণতান্ত্রিক বৈধতা হারানো, জনমতের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, বিরোধী শক্তির পুনর্জাগরণ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আইনি জটিলতা,সব মিলিয়ে বিএনপির সামনে এক কঠিন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা। সেই আস্থার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেলে কোনো রাজনৈতিক দলই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।

গণভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য ঠিক সেই ধরনের একটি ‘টেস্ট কেস’। যা নির্ধারণ করবে তারা আওয়ামী লীগের মত দীর্ঘমেয়াদী দু:শাসন চালাতে পারবে, নাকি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার পরিনতি হিসেবে ক্ষমতার মেয়াদ ফুরানোর আগেই দুমড়ে-মুচড়ে যাবে।
………………………………………….
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
৩ মার্চ ২০২৬
………………………………………….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *