পৌরসভার বয়স ২৫ বছর, নেই নিজস্ব ভবন; ৮৪ লাখ টাকার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন

রাজশাহী প্রতিনিধি:

একটি পৌরসভা মানেই নাগরিক সেবার কেন্দ্র এবং একটি জনপদের প্রশাসনিক পরিচয়। অথচ প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পরও রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার নেই নিজস্ব ভবন। ভাড়া করা একটি ছোট ভবনেই চলছে সব প্রশাসনিক কার্যক্রম।

এতে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা, আর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৮৪ লাখ টাকার ব্যবহার নিয়ে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০০১ সালে পুঠিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও সীমানা-সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এ সময়ে প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে প্রথম এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন হলেও এখনো নির্মিত হয়নি স্থায়ী পৌর ভবন।

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, ২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য সরকার ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও সেই অর্থে ভবনের কাজ শুরুই হয়নি। তাদের অভিযোগ, বিগত দুই মেয়াদে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়নি এবং এর একটি বড় অংশ অনিয়ম ও তছরুপের মাধ্যমে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিলে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টাকা।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও বিপুল ঋণের চাপে রয়েছে পৌরসভা। অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমও অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

নিজস্ব ভবন না থাকায় জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং কর, বিভিন্ন সনদসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন নাগরিকরা। বর্তমান ভাড়া ভবনে প্রয়োজনীয় দপ্তর, নথি সংরক্ষণের ব্যবস্থা কিংবা সেবাগ্রহীতাদের বসার পর্যাপ্ত স্থানও নেই।

পৌরসভার ৮ নম্বর কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, “২৫ বছরেও পৌর ভবন হয়নি—এটি শুধু ব্যর্থতা নয়, নাগরিকদের প্রতি অবহেলারও প্রমাণ। ভবন নির্মাণের অর্থ নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি খাস জমি, অধিগ্রহণকৃত জমি বা পৌরসভার নিজস্ব জমিতে পৌর ভবন নির্মাণ করা যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুঠিয়া সদরে সরকারি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়ায় এত বছরেও স্থায়ী ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি পৌর সদরের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় ভবন নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

তবে নাগরিকদের প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে—২৫ বছরের অপেক্ষার দায় নেবে কে? ২০০৭ সালের ৮৪ লাখ টাকার বরাদ্দের হিসাবই বা কোথায়? আর কতদিন ভাড়া ভবনেই চলবে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *