এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আনিসুজ্জামান (অবঃ)বীর প্রতীক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজ্জামান (অবঃ) বীর প্রতীক, এনডিসি, পিএসসি, এমফিল, এমবিএ, এলএলবি)।

তাঁর এই যোগদানকে ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা, মানবিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে নতুন পথচলা

সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবিক সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির মূল দর্শন—মানবিকতা, সহায়তা, স্বাবলম্বিতা ও উন্নয়ন। এই দর্শনকে সামনে রেখে মানবতার সেবায় একটি বৈষম্যহীন, সহমর্মী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য।

অভিজ্ঞ নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনা

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আনিসুজ্জামান তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, প্রশাসনিক জ্ঞান, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা মানবকল্যাণমূলক কাজে লাগানোর প্রত্যাশা নিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী সময়েও তিনি বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত, গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর ভূমিকা হবে ফাউন্ডেশনের সামগ্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শ, কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং মানবিক উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।

ফাউন্ডেশনের কাজের পরিধি আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা

নতুন নেতৃত্বের সংযুক্তিতে এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ তার চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত পরিসরে মানবকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রত্যাশা করছে।

ফাউন্ডেশনের সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে

১. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও পুনর্বাসন:
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, তালিকাভুক্তকরণ, হুইলচেয়ার ও প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ প্রদান, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ।

২. শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি:
অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, বই, খাতা, পোশাক, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

৩. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা:
বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং অসচ্ছল রোগীদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি সম্প্রসারণ।

৪. দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান:
অসহায় যুবক-যুবতী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্প, কুটিরশিল্পসহ বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করা।

৫. ক্ষুদ্রঋণ ও স্বাবলম্বীকরণ:
দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা এবং পরিকল্পিত স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।

৬. দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা:
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। জরুরি খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা।

৭. অসহায় পরিবার ও সামাজিক সুরক্ষা:
ছিন্নমূল, পথশিশু, অসহায় নারী, প্রবীণ ও হতদরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ। পাশাপাশি বিবাহ উপযোগী অসহায় প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষের বিয়েতে সহযোগিতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: স্থানীয় উদ্যোগ থেকে বৃহত্তর মানবিক কার্যক্রম

এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুসংগঠিত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।

এ লক্ষ্যে কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রথমত, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ এবং তাদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয়ত, একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিবন্ধী, হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ করে পর্যায়ক্রমে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তৃতীয়ত, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া।

চতুর্থত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে তাদের অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা।

পঞ্চমত, ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিয়মিত মূল্যায়ন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের প্রত্যাশা

এ বিষয়ে এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মানবিক মোঃ হেফাজ উদ্দিন নয়ন বলেন,

“ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আনিসুজ্জামান স্যারের মতো একজন অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, মেধা, মনন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দূরদর্শী পরামর্শ আমাদের মানবিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আমাদের লক্ষ্য শুধু অসহায় মানুষকে সাময়িক সহায়তা প্রদান করা নয়; বরং তাদের জীবনমানের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটানো। আমরা চাই, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন সমাজে বোঝা হিসেবে নয়, বরং একজন মর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। একজন দরিদ্র শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, একজন অসহায় রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে জীবন হারানোর ঝুঁকিতে না পড়েন এবং একটি অসহায় পরিবার যেন নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নতুন অঙ্গীকার

সামাজিক উন্নয়ন কেবল আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, দক্ষ নেতৃত্ব, সামাজিক সচেতনতা, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব বিষয়ের সমন্বয় ঘটানোই এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আনিসুজ্জামানের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান প্রতিষ্ঠানটির জন্য সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ একদিন দেশের প্রতিবন্ধী, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আস্থার একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

মানবতার সেবায়, মানুষের পাশে—এই অঙ্গীকারকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে চায় এস.কে প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *