রাজশাহীতে নারীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

রাজশাহীর লক্ষীপুর এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী ও তার স্বজনদের মারধর, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর লক্ষীপুর এলাকার পুরাতন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মৃত গোলাম কিবরিয়া জিকিরের ছেলে লাবিব সারাফাত রিদান (২১) ও হামিদুল আলম সনি (৩০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টার দিকে রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর এলাকায় আর রহমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক স্বজনের জন্য প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কিনতে ওই এলাকায় একটি ফার্মেসিতে যান তৌহিদের স্ত্রী মোছা. রূপা খাতুন (১৯), তার বড় ভাই মো. রাজিব আলী (২৮) ও শাশুড়ি। ফার্মেসিতে কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে আসার সময় হোটেলের সামনে পৌঁছালে মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ রানা তার পরিচিত একটি দোকান থেকে ওষুধ কেনার জন্য তাদের প্রস্তাব দেন। তারা এতে রাজি না হওয়ায় তিনি গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় রূপা খাতুনের ওড়না ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার বড় ভাই রাজিব আলীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে দুই নারীকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নজরে আসে। তার নির্দেশনায় পুলিশ ভুক্তভোগীর সন্ধান চালিয়ে তাকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা থেকে খুঁজে বের করে।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর তৌহিদ রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও মিডিয়া মুখপাত্র গাজী উর রহমান বলেন, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কোনো ব্যক্তি দালাল বা অন্য কারও মাধ্যমে হয়রানির শিকার হলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *