কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রোববার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় চারজন এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়েও তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সন্দেহ করা তুহিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আলামত পুলিশের হাতে এসেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নেওয়ার বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
গ্রেপ্তারদের বয়সের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং অন্য একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। বয়স নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অপ্রতিমের সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তারা বিভিন্ন সময় একসঙ্গে আড্ডা দিত। অভিযুক্তদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে আনুমানিক পাঁচ থেকে ১০ বছর বড়। তাদের কিশোর অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রত্যাশা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রয়োজনীয় সব আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে। আদালত মামলাটির বিচার করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি।
সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি নির্জন জায়গায় স্থানীয়রা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সেটি অপ্রতিমের বলে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এবি/আকা
