গাইবান্ধায় সময় থাকতেই হঠাৎ ধান কেনা বন্ধ, কৃষকরা হতাশ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
আগামি ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহে সরকার নির্ধারিত সময় রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে গাইবান্ধায় ধান সংগ্রহ অভিযান বন্ধ করেছে খাদ্য বিভাগ। ফলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, সরকার অতিরিক্ত ধান কেনার জন্য খাদ্য বিভাগকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু খাদ্য বিভাগ ধান কিনছে না।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বললেন, অনেক কৃষক পরিবারে বাড়তি আয়ের উপায় নেই। ধান চালের ওপর নির্ভরশীর হলেও তারা ধানের ন্যায্য মুল্য পাননা। কৃষকের গোলায় এখনো উবৃত্ত ধান আছে। কিন্তু খাদ্য বিভাগ ধান কিনছে না।তিনি বলেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মুল্যে সরাসরি ধান কেনার প্রতিশ্রুতি দেন।কিন্তু তা না করে নির্ধারিত সময়ের আগেই থান কেনা বন্ধ করে দেয়। তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় অব্যাহত রাখঅর দাবি জানান।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন। গত ১২ আগষ্ট পযর্ন্ত ১৪ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, জেলায় ১১টি খাদ্য গুদামে ধান ও চালের ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে মজুদ আছে ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। আগামি ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহে সরকার নির্ধারিত সময় রয়েছে। কিন্তু গাইবান্ধা খাদ্য বিভাগ গত ৯ আগস্ট থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেন। ফলে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবছর জেলায় বোরো ধানের চাষ হয় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর। বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয় ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত থাকে শুধু বোরো ধান ৯৭ হাজার ৯২৩ মেট্রিক টন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ক্রোড়গাছা গ্রামের কৃষক আবদুর রউফ সরদার (৫৫) বলেন, এবছর প্রায় ২০০ মন বোরো ধান উৎপাদন করেছি। এরমধ্যে ৮০ মন খাওয়ার জন্য রেখেছি। বাকি ১২০ মন ধান বিক্রি করে সংসারের দায়দানা মেটাবো। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতিমন ধান ১ হাজার টাকার নিচে। এই দরে ধান বিক্রি করলে লোকসান হবে। সরকারি গুদামও ধান কিনছে না। ফলে ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের কৃষক মইনুল হক (৪৫) বলেন, ‘হামরাঘরে কিরসোক মানুস। সোংসারোত কারো চাকরি নাই, ব্যবসাও নাই। ধান চাউল বেচি দায়দেনা মিটাই। কিনতো বাজারোত ধানের দাম নাই। সোরকারি গুদামোত ধান বেচপ্যার পাইনে।তাদের মত অন্তত ২৫ জন কৃষক ধান বেচাকেনা নিয়ে তাদের কষ্টের কথা জানালেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিমন মোটা ধান ৮৫০ টাকা ও চিকন ৯৫০ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে। এবার প্রতিমন ধানের সরকারি মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা।

এসব বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু মুঠোফোনে বলেন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে। তাই ধান ক্রয় বন্ধ রাখা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *