শেকড়হীনরা নুরের অবদান অস্বীকার করছে, ইতিহাস এদের ক্ষমা করবে না’


​মনিরুল ইসলাম মাসুম :
​২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে নুরুল হক নুরের লড়াইকে অস্বীকার করা ‘কৃতঘ্নতা’ বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এক বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মাসুম বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতির সামনে কিছু ‘রূঢ় সত্য’ তুলে ধরেন।

​‘ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০১৮ সালেই’
​বিবৃতিতে মাসুম বলেন, “আজ যারা বড় বড় কথা বলছেন, তারা কি ভুলে গেছেন ২০১৮ সালের সেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা? যদি সেদিন ভিপি নুরের নেতৃত্বে সেই আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত না হতো, তবে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের সাহস আপনারা কোথায় পেতেন?”
​তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২৪-এর আন্দোলনের কঠিন সময়ে যখন অনেকে সমঝোতার পথ খুঁজছিলেন, তখন কারান্তরীণ নুর ঘোষণা দিয়েছিলেন—”৯০% পতন হয়ে গেছে, আর মাত্র ১০% ধাক্কা দিন।” এটিই ছিল প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।

​‘নুরকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো’
​বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনের সফলতা আসার পর অনেকেই এখন ভোল পাল্টে বড় বড় কথা বলছেন। মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন:
​”হাসিনার পতন না হলে আজ আপনারা হয়তো ভোল পাল্টে আবার আওয়ামী লীগই করতেন, কিন্তু নুরকে ঠিকই ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো। অথচ আজ আপনারা তাকেই অস্বীকার করছেন? সত্য এটাই যে, ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ভিপি নুর গত ৮ বছর রাজপথে রক্ত আর ঘাম ঝরিয়েছেন।”

শেকড়হীন রাজনীতির সমালোচনা
​নতুন প্রজন্মের কিছু কর্মীর আচরণকে ‘পরগাছা’র সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে যেমন বাবার অবদান অনস্বীকার্য, তেমনি এই আন্দোলনের শেকড় হলেন নুর। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শেকড় ছাড়া গাছ বাঁচে না। যারা নিজেদের অতীত আর অস্তিত্বকে সম্মান করতে জানে না, ইতিহাস তাদের মনে রাখে না।”

‘৫ বছর পর রাজপথে দেখা হবে’
​বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভিপি নুর এখন আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ করে বর্তমান ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করছেন। যারা এখন নুরের সমালোচনা করছেন, তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মাসুম বলেন:
​সামর্থ্য প্রমাণ করুন: যাদের এখন আন্দোলনের প্রয়োজন, তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করুন।

​ভবিষ্যৎ হুংকার: যদি সফল হতে না পারেন, তবে মনে রাখবেন—ইনশাআল্লাহ ৫ বছর পর আবার রাজপথে দেখা হবে, স্লোগানে স্লোগানে কথা হবে।
​পরিশেষে, প্রলোভন আর মিথ্যে অহংকার ত্যাগ করে পিতৃতুল্য ত্যাগকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিটি শেষ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *