নিজস্ব প্রতিবেদক : নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ঝিনাইদহের মহেশপুরে তিন দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর কবিতাকে মঞ্চের ভাষায় রূপ দেওয়া হয়েছে। ‘বিদ্রোহী নজরুল’ শীর্ষক এই কর্মশালাভিত্তিক প্রযোজনার মাধ্যমে কবির সৃষ্টিকে অভিনয়, আবৃত্তি, সংগীত ও শরীরী অভিব্যক্তির সমন্বয়ে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
রোববার বিকেলে মহেশপুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি মিলনায়তনে মহেশপুর শিশু থিয়েটার ও বনলতা নাট্য সংসদের যৌথ আয়োজনে এ বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুকুট মেহেদী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর ল্যাবরেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংস্কৃতিজন এ.টি.এম. খায়রুল আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সুন্দরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, মহেশপুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির এবং পাতিবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চায়না পারভীনসহ স্থানীয় সংস্কৃতিজন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বনলতা নাট্য সংসদের সভাপতি রুবিনা রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বনলতা নাট্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক পথিক শহিদুল। ‘বিদ্রোহী নজরুল’ প্রযোজনায় কবির বিদ্রোহী চেতনা, মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম ও সৌন্দর্যের দর্শন তুলে ধরা হয়। অভিনয়, আবৃত্তি, সংগীত, শরীরী অভিব্যক্তি এবং মঞ্চ-নান্দনিকতার সমন্বয়ে কবিতাগুলোকে ভিন্নধর্মী পরিবেশনায় উপস্থাপন করেন শিশু ও তরুণ শিল্পীরা।
নজরুলের কবিতাকে শুধু আবৃত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মঞ্চের দৃশ্যভাষা ও অভিনয়নির্ভর প্রযোজনায় রূপ দেওয়াই ছিল ‘বিদ্রোহী নজরুল’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শিশু ও তরুণ শিল্পীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের সৃজনশীল সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কবির বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন নতুন প্রজন্মের শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চেতনা গড়ে তোলা সম্ভব।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নজরুলের বিদ্রোহ, মানবতা ও সাম্যের দর্শনকে নতুন প্রজন্মের শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যয়েই ‘বিদ্রোহী নজরুল’ প্রযোজনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মশালা ও মঞ্চায়নের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, প্রশিক্ষক, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
