চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (Regional Training Course on Industrial Safety) শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স গত ২৯ জুন সকাল ৯:৩০ টায় উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত
গ্লোবাল পোর্টস সেফটি যৌথভাবে প্রশিক্ষণটি আয়োজন করেছে। দুই সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিঁ-মার্ক সেরে শার্লেট (S. E. Jean-Marc Sere-Charlet)। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত Key Note Speaker হিসেবে বক্তব্য রাখেন। উক্ত প্রশিক্ষণে ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মোট ২০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে অংশগ্রহণকারী সকলকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি বিষয়ক প্রশিক্ষণে স্বাগত জানান । তিনি বলেন, আলোচ্য প্রশিক্ষণটি সমুদ্র বন্দরগুলোর শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রাম বন্দর ভবিষ্যতেও এমন কোর্স আয়োজনের ধারা অব্যাহত রাখবে।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় চট্টগ্রাম বন্দরে দুই সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীটি অংশগ্রহনকারীদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে শিল্প ঝুঁকি এড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। তিনি প্রশিক্ষণের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

বিশিষ্ট শিল্প নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অলিভিয়ার সালভি (Olivier Salvi)-এর পরিচালনায় এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক ও উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন কনটেইনার টার্মিনাল, তরল হাইড্রোকার্বন ডিপো, তেল ও গ্যাস অপারেশন এবং রাসায়নিক স্টোরেজ সুবিধার সাথে জড়িত জটিল ঝুঁকিগুলো মোকাবেলায় উন্নত কৌশল বিষয়ক প্ৰশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।

প্রশিক্ষণের মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে –

◾ উন্নত পরিস্থিতির মডেলিং :
ইউরোপীয় কমিশনের ADAM সফটওয়্যার এবং ইনেরিস-এর PRIMARISK
প্ল্যাটফর্ম-এর মতো বিশেষায়িত ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীরা পুল ফায়ার, বিষাক্ত গ্যাসের নি:সরণ এবং বিস্ফোরণের মতো বড় দুর্ঘটনার পরিস্থিতি অনুকরণ ও এর নিরাপদ দূরত্ব গণনা করার কৌশল শিখবেন।

◾সরেজমিনে মূল্যায়ন এবং কেস স্টাডি :
এই কর্মসূচিতে স্থানীয় তেল টার্মিনাল এবং ডিপোগুলোতে সরাসরি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব জগতের বিপদগুলো চিহ্নিত করতে এবং কার্যকর নিরাপত্তা সুপারিশ তৈরিতে সাহায্য করবে।

◾আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য : গ্লোবালি হারমোনাইজড সিস্টেম, জাতিসংঘ রেগুলেশন মডেল এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারাস গুডস ক্লাসিফিকেশনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যা আঞ্চলিক প্রটোকলগুলোকে বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে। আঞ্চলিক সামুদ্রিক খাতের জনবলের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে, গ্লোবাল পোর্টস সেফটি প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জরুরী পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়ার পরিকল্পনা উন্নত করা এবং শিল্প দুর্ঘটনা থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনকে সুরক্ষিত রাখা।
আলোচ্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহনকারীগণ আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে বড় শিল্প দুর্ঘটনা প্রশমনের উন্নত কৌশল, স্থানীয় তেল টার্মিনাল ও ডিপো পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব জগতের বিপদ চিহ্নিতকরণ এবং
পাশাপাশি গ্লোবালি হারমোনাইজড সিস্টেম ও ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারাস গুডস এর মত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদন্ড অর্জন করতে সক্ষম হবেন। এছাড়া এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাগণ জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলা ও শিল্প দুর্ঘটনা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় প্রধান, উপ-বিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মমর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান মো: আবদুল হান্নান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইনস্ট্রাক্টর জনাব সাঈদ ইমাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *