সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভারতের আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা গণ অধিকার পরিষদের


‎​মনিরুল ইসলাম মাসুম:
‎​”উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বর্তমানে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ভারত থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশ-ইন করার যে জঘন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ লাঠি, মশাল ও টর্চ হাতে নিয়ে যে সাহসী পাহারায় নেমেছে, তা আমাদের জাতীয় প্রতিরোধের প্রতীক।

‎​আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ভারতের এই কর্মকাণ্ড সরাসরি ‘আগ্রাসন’ এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে কোনো সভ্য দেশ এমন আচরণ করতে পারে না।
‎​বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থানকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। ভারত যদি তাদের এই অযৌক্তিক ও হঠকারী আচরণ অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে বাংলাদেশ এই বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপন করতে বাধ্য হবে। ভারতের মনে রাখা উচিত, এই পদক্ষেপ তাদের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

‎​ভারত হয়তো মনে করছে দাদাগিরি বা পেশিশক্তি প্রদর্শন করে ঢাকাকে চাপে রাখা সম্ভব, কিন্তু তারা আসলে নিজেদেরই এক বড় ‘কূটনৈতিক সুনামির’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সীমান্তে তাদের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ভারতবিরোধী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো জনবিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।
‎​পরিশেষে বলব, ঢাকার বর্তমান নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। এটি ঝড়ের আগের নীরবতা মাত্র। সময় এসেছে ভারত সরকারকে তাদের ভুল নীতি থেকে বেরিয়ে আসার, অন্যথায় এর পরিণাম তাদেরকেই ভোগ করতে হবে।”

3 thoughts on “সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভারতের আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা গণ অধিকার পরিষদের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *