নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং।
সোমবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফোরামের সদস্যরা সরকারের এই সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে এক লক্ষ ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। এ বাস্তবতায় বিদ্যমান আইনকে আরও কার্যকর করতে সংশোধিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)সহ বিভিন্ন ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচকে প্রথমবারের মতো তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, যা তরুণ সমাজসহ সব শ্রেণির মানুষকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ তরুণ। এর মধ্যে ৯.২ শতাংশ তরুণ তামাক ব্যবহার করে। সংশোধিত এই অধ্যাদেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তরুণরা ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাক পণ্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে, কমবে তামাক ব্যবহার এবং হ্রাস পাবে তামাকজনিত অকাল মৃত্যুর হার। পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশগত ক্ষতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
নতুন অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ, তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শন বন্ধ এবং প্যাকেটে ৭৫ শতাংশ সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযোজনের মতো উদ্যোগকে সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোরামের তরুণ সদস্যরা দাবি জানান, আগামী নির্বাচিত সরকার যেন দ্রুত এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেয়। পাশাপাশি জনস্বার্থে সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রয় নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর পূর্ণ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং-এর কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তাসনিম হাসান আবির, খাদিজাতুল কুবরা, বায়েজিদ হোসেনসহ ইয়ুথ ফোরামের অন্যান্য সদস্যরা।
