শীত এলেই শিশুর অসুখ? যেভাবে সুস্থ রাখবেন

এবি২৪ ডেস্কঃ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ বাবা-মায়ের মধ্যে উদ্বিগ্নতা বাড়তে থাকে। কারণ এসময় তাদের শিশুরা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে পানি পড়া থেকে শুরু করে ক্রমাগত কাশি, মনে হতে থাকে যে শীতকালীন রোগগুলো কখনও থামবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এই ঋতুকালীন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের পেছনে একটি স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। যদি সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়, তাহলে বাবা-মা এই ঠান্ডা মাসগুলোতে তাদের শিশুদের ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন।

শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেন কমে যায়

শীতকালে এমন অনেক পরিবর্তন আসে যা শিশুর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। ঠান্ডা এবং শুষ্ক বাতাস সবচেয়ে বড় অপরাধীর মধ্যে একটি। গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি নাক এবং গলা শুকিয়ে দেয়, যা আক্রমণকারী ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একবার এই বাধা দুর্বল হয়ে গেলে, সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীরে প্রবেশ করা সহজ হয়।

শিশুদের মধ্যে শীতকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা

১. ঘন ঘন সর্দি এবং কাশি

২. গলা এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ

৩. ফ্লু

৪. অতিরিক্ত হাঁপানি

৫. অ্যালার্জি

৬. ক্লান্তি।

শীতে শিশুকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবেন যেভাবে

১. সুষম, পুষ্টিকর খাদ্যের দিকে মনোযোগ দিন

আপনার সন্তানের প্লেট রঙিন ফল এবং শাকসবজি, বাদাম, বীজ, গোটা শস্য এবং মৌসুমি ফসলে পূর্ণ করুন। ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার, কমলা, আমলকী, বেরি, গাজর, পালং শাক এবং কুমড়া শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

২. বাইরে খেলতে উৎসাহিত করুন

প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলে তা শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বাইরে খেললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই আপনার শিশুকে রোদে থাকতে দিন, বাইরে খেলতে উৎসাহ দিন।

৩. হাইড্রেটেড রাখুন

শিশুরা শীতকালে তৃষ্ণার্ত নাও হতে পারে, তবে তাদের শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকা প্রয়োজন। উষ্ণ স্যুপ, ডাবের পানি, হালকা গরম পানি এবং টাটকা ফলের রস হাইড্রেশনের জন্য সহায়ক। শিশুকে এ ধরনের তরল খাবার খেতে দিন।

৪. ঘুম এবং বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দিন

ভালো ঘুম শরীরকে মেরামত এবং পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালোভাবে কার্যকর রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। তাই শিশুর নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করুন।

৫. ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন

নিয়মিত হাত ধোয়া, প্রয়োজনে পরিষ্কার মাস্ক ব্যবহার করা এবং তীব্র শীতের দিনে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম এড়িয়ে চলার মতো সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শীতের সময়েও শিশুর সুস্থ থাকা সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *