চট্টগ্রাম ব্যুরো :
চট্টগ্রামের হালিশহরে এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন ১ নং রোডের হালিমা মঞ্জিল নামক একটি ৬ তলা আবাসিক ভবনের ৩য় তলার একটি ফ্ল্যাটে গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে লাইনের গ্যাসের লিকেজ হতে বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠে আশেপাশের ২ কিলোমিটার এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহেরীর কিছুক্ষণ আগে রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয় একই পরিবারের সকল সদস্য।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বাড়িটিতে সিলিন্ডার গ্যাস নেই, লাইনের গ্যাস। প্রচন্ড বিস্ফোরণে ৬ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালাসহ আশেপাশের বিল্ডিংয়ের জানালা ভেঙে রাস্তায় এসে পড়ে এবং আগুণ ধরে যায় ৩য় তলার পুরো ফ্ল্যাটে। ধারণা করা হচ্ছে রাতে লাইনের গ্যাস অন করে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই। ফ্ল্যাটের সবগুলো জানালা লাগানো থাকার কারণে গ্যাস বের হতে পারেনি এবং গ্যাস লিক হয়ে পুরো ফ্ল্যাটে আটকে থাকে। ভোর রাতে সেহেরীর সময় যখন চুলা জ্বালাতে যায়, সাথে সাথে এই বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ এম্বুলেন্সে করে আগ্নিদগ্ধে আহত সবাইকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। অগ্নিদগ্ধরা হলেন- শিপন (৩০), সুমন (৪০), শাওন (১৭), আয়েশা (৪), আনাস (৭), আইমান (৯), শাখাওয়াত (৪৬) ও পাখি (৩৫)।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এর ২টি ইউনিট এসে অগ্নি নির্বাপণের কাজ শুরু করে। ভোর ৫ টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রান্নাঘরের চুলা বা পাইপ লাইনের লিকেজ হতে জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই মো. আশিক জানান, ফ্ল্যাট বাসায় লাইনের গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ অগ্নিদগ্ধ ৯ জনকে ভোরে হাসপাতালে আনা হয়।
অগ্নিদগ্ধদের চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ণ ইউনিটে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হয়েছিলো।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
