ককটেল সদৃশ ৪৫টি বস্তু উদ্ধার শরীয়তপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি ও চরগোয়ালী ব্যাপারীকান্দি গ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে ককটেলের সদৃশ ৪৫টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কয়েকটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড এবং অ্যান্টি-টেররিজম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যৌথভাবে এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন জানান, সংঘাতপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ককটেলের সদৃশ বস্তু, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে একজন এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনসহ দুইজন নিহত হন। গুরুতর আহত একজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন সোহান ব্যাপারী (চরগোয়ালী ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে) এবং অপরজন নবীন হোসেন (রহিম সরদারের ছেলে)। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর ককটেল তৈরিতে জড়িতরা সোহানের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সাতঘরিয়া কান্দি এলাকার একটি ফসলি জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়। আহতদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ বিস্ফোরিত বাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপাদান উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত উপাদান দিয়ে অন্তত ১০০টি ককটেল তৈরি করা সম্ভব।

পুলিশের দাবি, মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে নতুন নির্মিত ওই বসতঘরে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থকরা ককটেল তৈরি করছিলেন। বিস্ফোরণে টিনের চালা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার তিন ভাইসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *