ইস্তিখারার নামাজের পর দোয়া পড়তে দেরি হলে করণীয় কী?

ইসলামিক ডেস্কঃ কোনো কাজ করার আগে আল্লাহর রহমত কামনার জন্য ইস্তিখারার নামাজ আদায় করা হয়। ইস্তিখারার নামাজের পর হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া পড়তে হয়। সাধারণত নামাজের পরই এই দোয়া পড়া হয়। তবে কেউ যদি কোনো কারণে হাদিসে বর্ণিত ইস্তিখারার দোয়াটি পড়তে দেরি করেন তাহলে তার জন্য কি আবার নতুন করে ইস্তিখারার নামাজ আদায় আবশ্যক।

যেমন, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন, তিনি আসরের নামাজের আগে ইস্তিখারার নামাজ আদায়ের নিয়ত করেন। দুই রাকাত নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই আসরের জামাত শুরু হয়ে যায়। ফলে তিনি ইস্তিখারার দোয়া পড়তে পারেননি।তার প্রশ্ন—আসরের নামাজের পর ইস্তিখারার দোয়া পড়লে কি তা যথেষ্ট হবে, নাকি মাগরিবের আগে আবার ইস্তিখারার নামাজ আদায় করতে হবে?

এ বিষয়ে আলেমরা বলেন, বাস্তবে ইস্তিখারার দোয়া দেরিতে পড়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ দোয়াটি সংক্ষিপ্ত; জামাতে নামাজ শুরু হওয়ার আগে সহজেই তা পড়ে নেওয়া যেত। তবে যদি কোনো কারণে দোয়া না পড়েই ফরজ নামাজে অংশ নিতে হয়, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ইস্তিখারার নামাজ শেষে দোয়া কিছুটা বিলম্বে পড়লে ইস্তিখারা শুদ্ধ থাকে, যতক্ষণ না দোয়া ও নামাজের মাঝে দীর্ঘ বিরতি সৃষ্টি হয়। আসরের নামাজ আদায় করা স্বল্প বিরতি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা ইস্তিখারার জন্য ক্ষতিকর নয়।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ইমাম শাওকানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে ‘তারপর সে বলবে’, এই বাক্যাংশ থেকে বোঝা যায়, নামাজের পর দোয়া পড়তে কিছুটা দেরি হলেও সমস্যা নেই, যদি বিরতি খুব দীর্ঘ না হয়।

আলেমরা আরও জানান, কেউ চাইলে ইস্তিখারার নামাজ ও দোয়া নতুন করে আদায় করলেও সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে শরিয়ত সংকীর্ণতা সৃষ্টি করেনি; বরং বিষয়টি সহজ রেখেছে।

মূলকথা হলো, ফরজ নামাজের গুরুত্ব বিবেচনায় ইস্তিখারার দোয়া সামান্য বিলম্বে পড়া বৈধ। এতে ইস্তিখারা আদায়ে কোনো সমস্যা হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *