শরীয়তপুরে পুলিশের কানের পর্দা ফাটাল ছাত্রলীগ নেতা

06 এশিয়ানবার্তা: শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের এক নেতার থাপ্পড়ে সেলিম মাতুব্বর নামে এক পুলিশ সদস্যের কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম আক্তার হোসেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

শরীয়তপুর সদর থানা সূত্র জানায়, আক্তার হোসেন মঙ্গলবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ সাহার কক্ষে যান। সঙ্গে ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও তাঁর মামা আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তাঁরা দেবাশীষ সাহার কাছে হোসেন খন্দকার নামের এক রোগীর আঘাতের চিকিৎসাজনিত সনদ চান। রোগী ছাড়া সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসক। তখন আক্তার চিকিৎসককে গালাগাল দিয়ে অপদস্থ করতে থাকেন। সেখানে তখন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছিলেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনে দায়িত্বরত পুলিশের নায়েক সেলিম মাতুব্বর। তিনি চিকিৎসককে কেন এভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে তা জানতে চান। তখন আক্তার উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করতে থাকেন। আক্তারের থাপ্পড়ে পুলিশ সেলিমের ডান কানের পর্দা ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

পুলিশ সদস্য সেলিম মাতুব্বরকে চিকিৎসা দেন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ইমরান খান। তিনি বলেন, আঘাতের কারণে সেলিমের কানের পর্দা ফেটে গেছে। তাঁর কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তার আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে আসেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান।

ছাত্রলীগ নেতা আক্তার হোসেনকে আটক করার জন্য পুলিশ তাঁর মামা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদারের বাসভবন ও ক্লিনিকে অভিযান চালায়। এ সময় আক্তারের কক্ষ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে উপজেলা সদরে আলমগীর হাওলাদারের মালিকানাধীন হাওলাদার ক্লিনিকে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নীতিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে ক্লিনিক চালানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মালামাল বাজেয়াপ্ত করে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। এ সময় ক্লিনিকে ভর্তি থাকা রোগীদের সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, আক্তার হোসেন প্রায়ই হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে চিকিৎসা সনদ নিতে চান। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ কারণে তিনি মঙ্গলবার চিকিৎসক দেবাশীষ সাহাকে অপদস্থ করেন। এর প্রতিবাদ করলে একজন পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন।

এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ডাক্তারের কক্ষে ছিলাম। হইচই শুনে বাইরে এসে দেখি আক্তার আর এক ব্যক্তি হাতাহাতি করছে। আমি তাদের নিবৃত্ত করি।’ তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর আমি আক্তারকে মারধর করে তাড়িয়ে দিই এবং পুলিশ সদস্যর কাছে ক্ষমা চাই।’

ঘটনার পর থেকে আক্তার পলাতক রয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে অপদস্থ ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.