শেখ হাসিনার ভারত সফর স্থগিত

08এশিয়ানবার্তা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতোমধ্যে ভারত সফরের কথা থাকলেও সেটি এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। এই খবর জন্ম দিয়েছে অনেক জল্পনা-কল্পনার। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মূল কারণ হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত তিস্তা চুক্তির ব্যর্থতা।

২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। দুই দেশ তিস্তা চুক্তিতে ঐক্যমতে পৌছলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাধার মুখে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। দুই দেশ তিস্তা নদীর পানি সমানভাগে ভাগ করে নিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি এটি তার রাজ্যের স্বার্থ বিরোধী বলে মনে করেন। সিকিম থেকে উৎপত্তি হয়ে তিস্তা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। তাই মমতার বাধার মুখে এই চুক্তি আটকে যায়, তবে চুক্তি পুরোপুরি বাতিল না করে এটি বিবেচনাধীন রাখা হয়েছিল।

তা সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরে এগিয়ে গিয়েছে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও গতিশীলতা পেয়েছে। ভারত বাংলাদেশে তৈরি সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে এবং এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে। তবে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে তিস্তা চুক্তি একটি ক্ষত হয়ে ছিল।

শেখ হাসিনার সফরকালে দুই দেশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং সামরিক সহযোগিতাসহ বৃহত্তর খাতে চুক্তির আশা করেছিল। পানি বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি আবেগপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এই ইস্যু অনেক সংবেদনশীল। আর তিস্তা বাংলাদেশ-ভারতের কৃষির জন্য একটি প্রধান উৎস। কৃষিতে উন্নয়নের জন্য ভারত গজলডোবা এবং বাংলাদেশ ডালিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেছে।

গজলডোবা বাঁধের কারণে বাংলাদেশ গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অনেক আগে থেকেই অভিযোগ উঠেছে। সিকিম নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করায় তিস্তাব প্রবাহ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের তৈরি ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কারণে নিন্মাঞ্চলে পানিপ্রবাহ কমে গিয়েছে, যদিও ভারত এটি অস্বীকার করছে।

বিরোধীদলগুলো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্বার্থ ছাপিয়ে ভারতমুখাপেক্ষী হওয়ার অভিযোগ করেছে। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া শেখ হাসিনার ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিস্তা চুক্তি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এখন একটি মানদন্ড। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থানের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে সমালোচনা প্রতিহত করার জন্য তিস্তা চুক্তি এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

আশা করা যায়, জয় লাভের ক্ষেত্রে দুই দেশই এক অপরের সীমাবদ্ধতা ও কাজ উপলদ্ধি করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.