ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার করা হবে: আইজিপি

03এশিয়ানবার্তা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের অতি দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। রোববার দুপুরের পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। আইজিপি বলেন, এ সকল ঘটনায় আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সরকারও এ সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ ও তৎপর রয়েছে।

নাসিরনগরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকল ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় শহরের সম্প্রীতি কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইজিপি বলেন, আমরা সকলে মিলে সর্বাত্মকভাবে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করবো।

সভায় উপস্থিত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নেতৃবৃন্দ দেশের যে কোন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশনা প্রদান, নাসিরনগরের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দায়দায়িত্ব নিরুপন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এছাড়া নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা সংক্রান্ত মামলাগুলো মনিটরিং করার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি মনিটরিং সেল গঠনেরও দাবি জানান।

আইজিপি গত ৩ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত এ ধরনের মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, সব ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী অনাকাঙ্খিত ঘটনা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার সৃষ্টি। এ সকল ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (এসবি), মাহবুব হোসেন, ডিআইজি (সিআইডি) ভানুলাল দাস, ডিআইজি (পিবিআই) বনজ কুমার মজুমদার, ডিআইজি (সিটি এসবি) মল্লিক ফখরুল ইসলাম, ডিআইজি (মিডিয়া এন্ড প্ল্যানিং) এ কে এম শহিদুর রহমান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্ণেল মোঃ আনোয়ার লতিফ খান, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথের, সহসভাপতি রনজিত কুমার বড়–য়া ও মহাসচিব ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়–য়া, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডল, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সদ্য প্রাক্তন সভাপতি জে এল ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম এর যুগ্ম সচিব শ্যামল কুমার পালিত, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া, ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, সংস্কৃতিকর্মী পীযূষ বন্দোপ্যাধায় ও ড. অরূপ রতন চৌধুরী, কন্ঠ শিল্পী সুবীর নন্দী, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক বর্তমানের উপদেষ্টা সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, ডিবিসি নিউজ-এর সম্পাদক প্রণব সাহা, দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, এটিএন বাংলার নির্বাহী সম্পাদক ভানু রঞ্জন চক্রবর্তী, কাজল দেবনাথসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.