স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি রুখতেই চার নেতাকে হত্যা করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

01এশিয়ানবার্তা: স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে জন্যই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর খামার বাড়িতে জেল হত্যা দিবসের স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দালালদের চরম প্রতিশোধ ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে যাতে মুক্তিযুদ্ধে চেতনার ধারায় বাংলাদেশ আর এগোতে না পারে। যাতে আওয়ামী লীগ আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে। এসব হত্যার পর কারা ক্ষমতায় এসেছে। পাকিস্তানের দালালরা এখানে ক্ষমতায় এসেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের পথ চিনিয়ে গ্রামে গ্রামে নিয়ে গেছে, এ দেশের মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, খুনি মোশতাক বেঈমানি করেছে, সে মীরজাফর। সেই খুনি মোশতাক ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান বানিয়েছে। পঁচাত্তরের আত্মস্বীকৃত খুনিরা বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছে, জিয়ার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, ইশারা দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পর অনেক দালাল পাকিস্তানে চলে যায়। সেসব যুদ্ধাপরাধীর ভোটের অধিকার পর্যন্ত ছিল না। জিয়াউর রহমান তাদের আইন ভঙ্গ করে এ দেশে আসার সুযোগ করে দেয়। জামায়াতকে এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কিছুদিন পরই ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় জেলখানায় জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অন্যতম চার প্রধান সেনানি তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়।

দিবসটি স্মরণে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ধান-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে বনানী কবরস্থান ও রাজশাহীতে জাতীয় চার নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.