ঢকায় গ্রেপ্তার অস্ত্র ব্যবসায়ী খায়রুল ভারতীয় পুলিশেরও ঘুম কেড়েছিল

%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%a9এশিয়ানবার্তা: রাজধানীর গাবতলী থেকে বিপুল অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ভারতের অস্ত্র ব্যবসায়ী খায়রুল মন্ডল তার দেশের পুলিশেরও ঘুম কেড়েছিল। সীমান্তে মাদক, গরু ও অস্ত্র পাচারের মুলহোতা খায়রুল হত্যা মামলারও আসামি। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা বনগাঁ বসিরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে সে। তার একটি বাহিনীও রয়েছে। যারা সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, সোনা ও গরু পাচার নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকায় তার রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। দুধর্ষ এই পাচারকারী খায়রুল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ লক্ষ্য করে গুলিও করেছিল। মোস্ট ওয়ান্টেড খায়রুলকে হন্যে হয়েও খুঁজছিল দেশটির পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা খায়রুলকে অনেক দিন ধরে খুঁজছিলাম।’

বৃহস্পতিবার ভারতের দৈনিক যুগশঙ্খের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  পাচারে বাধা দেওয়ায় বিএসএফকে গুলি এবং খুনের মামলায় জামিন নিয়ে বনগাঁ বসিরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে গরু, গাজা এবং অস্ত্র পাচার করতো বাংলাদেশে অস্ত্রসহ গ্রেফতার গোপালনগরের খায়রুল মন্ডল। তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালিয়েও গ্রেফতার করেতে পারেনি পুলিশ। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার কিছু সময়ের জন্য এলাকায় দেখা গেলেও বেশ কয়েকদিন ধরেই সে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৯ সালে একটি খুনের ঘটনায় প্রথম গ্রেফতার হয় খায়রুল। বাম শাসকের ছত্রছায়ায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ বসিরহাটের গোপালনগর,বাগদা, ঝাউডাঙা এবং বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে দাপিয়ে গরু পাচার করত সাগরেদদের নিয়ে। গরু পাচারের টাকায় খুনের মামলার সাক্ষীদের প্রভাব খাটিয়ে জামিন নিয়ে ফের শুরু করে গরু এবং গাজা পাচার। ২০১১ সালে পাচারের অভিযোগে একবার গোপাল নগর থানা এলাকায় সে গ্রেফতারও হয়। কিন্তু জামিন নিয়ে ফের যথারীতি পাচার ব্যবসা শুরু করে। রাজ্যে শাসক বদল হতেই তার ছত্রছায়াও বদলে যায়। ২০১২ সালে পাচারে বাধা দিলে বিএসএফকে লক্ষ্য করেই সে গুলি চালায়। এ ঘটনার পর বিএসএফ তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পুলিশের হাতে দিলে ছয় মাস পর জামিন নিয়ে আবারও পাচার ব্যবসা শুরু করে খায়রুল। পাচারের ব্যবসায় পাচার-পণ্যে যোগ হয় বিহারের অস্ত্র।

একটি সূত্রের বরাতে যুগশঙ্খ জানায়, জেলে থাকাকালীন খায়রুলের পরিচয় হয় অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার এক বন্দির সঙ্গে। গল্প শুনে মুখস্ত করা ঠিকানা নিয়ে যোগাযোগ করে বিচারের অস্ত্রব্যবসায়ীদের সঙ্গে। বাংলাদেশে গরু এবং মাদক পাচার চক্রের নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করে শুরু হয় অস্ত্র পাচার ব্যবসা। বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পলিথিনে মুড়ে বালির ট্রাকে চাপিয়ে এনে সুযোগ বুজে বাংলাদেশে পাচার করে সেগুলো বিভিন্ন জঙ্গি বাহিনীর কাছে বিক্রি করতো খায়রুল। এই কাজে খায়রুলকে সঙ্গ দিত আমিরুল, সাত্তার এবং নাসির মন্ডল। ২০১৪ সালের নভেম্বরে আমিরুল মাদকসহ গ্রেফতার হয়। এর কিছুদিন পর ২০১৫ সালে সাত্তার খুন হলে খানিকটা দমে যায় খায়রুল।

তবে ইতিমধ্যে গ্রামে বানিয়ে ফেলে প্রসাদোপম বাড়ি। কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল দামি গাড়িতে। সেসময় এলাকার একাংশ উঠতি যুবককে নিয়ে বাহিনী তৈরি করে খায়রুল শুরু করে পাচার ব্যবসা। কিন্তু পুলিশের নজরদারিতে এ রাজ্যে থেকে ব্যবসা চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল তার পক্ষে। তখন থেকেই সীমান্তের ওপারে বেনাপোলে বসে ব্যবসা সামলাতে থাকে খায়রুল। সেখানে বিয়েও করে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে ফেরার ছিল সে। এপ্রিল মাসে গোপাল নগর থানা খবর পায় খায়রুল বাড়িতে আছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে বাড়ি ঘিরে ফেললেও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায় সে। তখন থেকেই পাকাপাকিভাবে বাংলাদেশে বসে এপারে নিজের হাতের তৈরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অস্ত্র এবং মাদক বিহার থেকে আনিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে সে। তিন দিন ধরে বাংলাদে পুলিশে হেফাজতে গোয়েন্দাদের জেরায়্এসব স্বীকারও করেছে খায়রুল।
নড়হমধ

ভারতের সীমান্তঘেঁষা গোপালনগরে খায়রুলের প্রসাদোপম বাড়ি

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, পুলিশের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী বুধবার বিকালে খায়রুলের পরিবারের খোঁজে গ্রামে গেলে দেখা যায়, দেশের সীমান্ত লাগোয়া অজপাড়া গা গোপাল নগরের সাতবড়িয়া সুন্দরপুরে এবড়োথেবড়ো রাস্তা ধরে এগোলেই প্রসাদোপম বাড়ি। গ্যারাজে একটি বুলেট এবং দুটি নামী ব্রান্ডের দামি গাড়ি তালা বন্ধ। বাড়িতে শ্মশানের নিস্তদ্ধতা। তালা বন্ধ দরজা তবে বাড়িতে কাক পক্ষীও সে বসার সাহস দেখায় না। পাড়ার ছেলেরাই আগলে রেখেছে শুন্য বাড়িটা। বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। গ্রামে ঢুকতেই পাড়ার ছেলেরা ঘিরে ধরে শুরু করে জেরা।

গ্রামের বাসিন্দা বক্সার মন্ডল বলেন, সীমান্তে পাচারের নায়ক আমিরুল ও সাত্তারের সঙ্গে খায়রুলের  ওঠাবসা ছিল। ওরা একসঙ্গে পাচারের ব্যবসা করতো। তবে গ্রামে খায়রুলেকে ভালো লোক বলেই জানে সবাই। তাদের বক্তব্য, এলাকার বেকারদের কাজের সুযোগ করে দিয়েছে খায়রুলই। বাংলাদেশে খায়রুলের গ্রেফতারের খবর দেখাতে এক যুবক বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কাগজ এনে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ মিথ্যা বলছে। আমরা দশ দিন আগে শুনেছি যাশোরের ঝিকরগাছা থেকে খায়রুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর পুলিশ দেখাচ্ছে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে তারা। বাংলাদেশ পুলিশেও আমাদের চেনা লোক আছে। সব খবর পাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.