আরডিএর ‘বনলতা প্রকল্পে’ প্লট কেলেংকারির তদন্ত শুরু(রাজশাহীর ১৩ সংবাদ)


মঈন উদ্দীন, রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বনলতা বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ৩১ প্লট হরিলুটের তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এই প্লট কেলেংকারির তদন্ত করছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কাশেম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩১ মে বনলতা বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ৩১ প্লটের মধ্যে আয়তনে বড় ও অধিকাংশ প্লট লটারির নামে প্রহসন করে নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কমলা রঞ্জণ দাস ও এষ্টেট অফিসার বদরুজ্জামানসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি। ওই সময় বনলতার প্লট হরিলুটের ঘটনায় রাজশাহীতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্লট বরাদ্দ বাতিল করে সুষ্ঠুভাবে লটারির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ ও প্লট কেলেংকারির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গত বছর ৯ জুলাই মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন রাজশাহীবাসী।
এদিকে প্লট কেলেংকারির ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েরও দৃষ্টিতে পড়ে। এর আগে মন্ত্রণালয় একদফা তদন্ত করেন বনলতার প্লট কেলেংকারির ঘটনা। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্লট কেলেংকারির সুষ্ঠু তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারই সূত্র ধরে সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কাশেমকে ঘটনাটি তদন্তের ভার দেওয়া হয়।
জানা যায়, তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে অতিরিক্ত সচিব কয়েকদফা রাজশাহীতে আসেন। তিনি পৃথকভাবে কথা বলেন, প্লট বরাদ্দ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে। প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করেও নিয়ে যান ঢাকায়। সূত্র মতে, তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে তলব করে আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমানসহ বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আরডিএর কর্মকর্তা কর্মচারিদের এতোসংখ্যক প্লট প্রাপ্তির যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু আরডিএর সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে কোনো জবাব দিতে ব্যর্থ হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বনলতা বাণিজ্যিক ও আবাসিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২০১৩ সালে ১৯৩টি প্লট ২৬টি শ্রেণী ক্যাটাগরির ও কোটাভুক্তদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওইসময় আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রাপ্য কোটা ৭টি প্লটের জন্য মাত্র ৪ জন আবেদন করেন। বাকি ৩টি প্লটের জন্য কোনো আবেদনকারী না থাকায় সেগুলি রেজ্যুলেশান করে অন্য ক্যাটাগরির অপেক্ষমান আবেদনকারীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তদন্ত সূত্র জানায়, ১৯৩ প্লটের মধ্যেই আরডিএর কর্মকর্তা কর্মচারিদের কোটা শেষ হয়ে যায়। পরে বরাদ্দকৃত ৩১ প্লটের মধ্যে তাদের কোনো কোটা প্রাপ্য ছিল না। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারার জন্য তারা বরাদ্দ যোগ্য শ্রেণী ক্যাটাগরি ২৬টি থেকে নামিয়ে ৮টিতে নিয়ে আসেন। তবে এই ৩১ প্লটের জন্য কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আবেদন করার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। অনেকেই আবেদন করেও প্লট পাননি।
সূত্র আরো জানায়, বেছে বেছে আরডিএর কর্মকর্তা কর্মচারিদের নামে ৬ কাঠা, ৫ কাঠা, ৪ কাঠা ও সাড়ে তিন কাঠার সেরা প্লটগুলি লটারিতে কীভাবে উঠল তা খুবই রহস্যজনক। আর সকাল সাড়ে ৯টায় লটারি অনুষ্ঠানের কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে নিয়মানুযায়ী মহানগর পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়নি। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান বজলুর রহমান ৬ কাঠা, এষ্টেট অফিসার বদরুজ্জামান পৌণে ৭ কাঠা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কমলা রঞ্জণ দাস ৫ কাঠার একটি করে প্লট নিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা জানান, আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা সকাল সাড়ে ৯টায় লটারি অনুষ্ঠানের কথা প্রচার করলেও ওইদিন লটারি হয়েছে এমন প্রমাণ মেলেনি। বরং চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে বরাদ্দ কমিটি নিজেরা মুল্যবান প্লটগুলি নিয়েছেন।
বনলতার প্লট কেলেংকারি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। কীভাবে আরডিএর কর্মকর্তা কর্মচারিরা এতসংখ্যক প্লট পেয়েছেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুলত: কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করেই তদন্ত হচ্ছে। সেখানে অনিয়ম বা দুনীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট

রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি এ সিন্ডিকেট গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সদস্য মনোনিত হয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এমপি এবং রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি রোববার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংসদ আয়েন উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয় সংসদের স্পিকার সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়ন দেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
সাংসদ আয়েন বলেন, আমাদের ওপর প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা রেখেছেন, ‘আমরা তার মূল্যায়ন করবো। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তজার্তিক মানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করতে আমরা কাজ করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করা হয়েছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবেন। আমরা তার হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়নে কাজ করে যাব।’

 

রেশম কারখানা চালু হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে: বাদশা

রাজশাহী ব্যূরো : রেশম কারখানা চালু হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি রবিবার দুপুরে রাজশাহী রেশম কারখানা পরিদর্শন শেষে এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার কি কারণে রেশম কারখানা বন্ধ করেছিলো তা চালু হলে বোঝা যাবে। কারখানা চালু হলে রাজশাহীর হারানো রেশম ঐতিহ্য ফিরে পাবে। পরিদর্শন শেষে সাংসদ বলেন, কারখানার সব মেশিনের কাজ প্রায় শেষ। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই কারখানা চালু হবে। আর কারখানাটি চালু হলে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরে যাবে।
রেশম বোর্ডের জোষ্ঠ্য সহ-সভাপতি আরও বলেন, কারখানাটি বন্ধ করার আগে ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন। বন্ধের পর সব শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই কারখানা চালু করা হবে। রাজশাহী আবার ‘সিল্ক সিটি’ নামে পরিচিত পাবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৯৬১ সালে সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠে রেশম কারখানা। ১৯৯৬ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকার নতুন যন্ত্রপাতি কিনে কারখানার আধুনিকায়ন করা হয়। কিন্তু লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর কারখানাটি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন বিএনপি জামায়াত জোট সরকার। সেখানে কর্মরত ছিল প্রায় ৩০০ স্থায়ী শ্রমিক।

রাজশাহীতে দুই শিবির নেতা গ্রেফতার

রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর আমচত্বর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই অভিযান চালায়। গ্রেফতার দুই শিবির নেতা হলেন- নগরীর মেহেরচণ্ডি পূর্বপাড়া মহল্লার বাবর আলী মণ্ডলের ছেলে মিলন হোসেন (২৮) ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গুরুমশীল গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে রাশিদুল ইসলাম (২৪)।
মিলন শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক। এখন তিনি নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সেক্রেটারী। আর রাশিদুল মহানগর শিবিরের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে তিনি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
বিকালে আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতার দুই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। তাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি, না মানলে ধর্মঘটের ঘোষণা

রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহীতে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সামবেশ, পথসভা ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রোববার রাজশাহী জেলা শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সামবেশ, পথসভা শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ আগামি ২২ জানুয়ারির মধ্যে সরকার পদক্ষেপ না নিলে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘট পালনসহ পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এছাড়াও আগামি ১৮ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি, অভিভাবক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় পর্যায়ের ৯টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশার সভাপতিতেত্ব বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ রইস উদ্দিন, অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক, মাহফুজুর রহমান রনি, যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে, অধ্যক্ষ মুহা. আমিনুর রহমান, অধ্যক্ষ জুলফিকার আহমেদ, অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক, অধ্যক্ষ আলম আরা, অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, মজিবর রহমান, শাহাবুদ্দিন, অশিত শাহা, রমজান আলী, আশরাফুল ইসলাম সুলতান প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। রাজশাহী জেলা শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে মানববন্ধনে অংশনেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও কারিগরি (ভোট) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারিবৃন্দ।

পুঠিয়ার মুসার বিরুদ্ধে ১৫ জনকে হত্যার অভিযোগ

রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহীর পুঠিয়ার মো. আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলা তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
তার বিরুদ্ধে চার সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন ছাড়াও অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মত যুদ্ধাপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনে চূড়ান্ত করা প্রতিবেদনটি এ বছরের প্রথম ও তদন্ত সংস্থার ৫৮তম তদন্ত প্রতিবেদন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঠিয়ার ভালুকগাছি ইউনিয়নের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের (মৃত) নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর হয়ে এ আসামি পুঠিয়া ও দুর্গাপুর এলাকায় এসব অপরাধ ঘটান।
রোববার ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান। এসময় জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক ও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
হান্নান খান বলেন, “পুঠিয়ার বাঁশবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মো. আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ মুক্তিযুদ্ধের আগে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে শান্তি কমিটির স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হন।”
জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক জানান, প্রতিবেদনে আসামি ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে চারজন সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘর লুন্ঠনসহ ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে দেওয়ার ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পুঠিয়া থানার ভালুকগাছী ইউনিয়নের সাঁওতাল পাড়ায় গিয়ে আসামি ফিরোজ খাঁ, পাকিস্তানি আর্মি ও তাদের সহযোগীরা স্বাধীনতার পক্ষের লাড়ে হেমব্রম, কানু হাসদা, জটু সরেন ও এবং টুনু মাড্ডিকে তরবারি দিয়ে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।”
এ আসামি ‘খুবই ধূর্ত’ মন্তব্য করে সানাউল হক বলেন, “তদন্তের সময় নাশকতার এক মামলায় গ্রেপ্তার হলে ফিরোজ খাঁকে পরে গত বছরের ২৪ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার পূর্বপুরুষ ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে আসা। মুক্তিযুদ্ধের পর সে পালিয়ে গিয়েছিল।”
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। তখন এ মামলায় আসামি ছিল ছয়জন। কিন্তু তদন্তকালে পাঁচ আসামির মৃত্যু হয়। চারটি ভলিউমে ৪০৯ পাতায় এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তদন্তের সময় ৪৪ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। যাদের প্রত্যেককেই ঘটনার সাক্ষী করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা ও সাতজনকে জব্দ তালিকার সাক্ষী করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ মতবিনিময় সভা

রাজশাহী ব্যূরো : বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারির চাকরি জাতীয়করণ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাতে রাজশাহী মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা।
মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-২ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। সংসদ সদস্যরা শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন বক্তব্যে বলেন, যে সরকার পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, স্যাটেলাইট করতে পারে, সে সরকার শিক্ষকদেরও চাকরি জাতীয়করণ করতে পারবে। সরকার এ নিয়ে কাজ করছে।
এসময় পবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা ও সমাজসেবক মোরশেদ মনজুর হাসান চুন্নাও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ক আমজাদ হোসেন।
এতে আরও বক্তব্য দেন- নন-এমপিও শিক্ষক সমিতির জেলার সভাপতি আসাদুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ, গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী প্রমুখ

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ২৮

রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর ৪টি থানা ও ডিবি পুলিশ মহানগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলমের মেইল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বোয়ালিয়া থানায় ১০ জন, রাজপাড়া থানায় ৮ জন, মতিহার থানায় ৮ জন, শাহমখদুম থানায় ২ জনকে আটক করে
আটককৃতদের মধ্যে ১৭ জন ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি, ৪ জনকে মাদকদ্রব্যসহ ও অন্যান্য অপরাধে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরে আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যেমে তাদেরকে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

রাজশাহী ব্যূরো : ‘পুলিশ জনগণ, জনগণই পুলিশ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে রাজশাহী কলেজে পালিত হয়েছে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। রবিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে কলেজ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মাহাবুবুর রহমান (পিপিএম)। স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আমির জাফর, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু আহাম্মদ আল মামুন, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড সাম্যসাথী ভৌমিক।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহাবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। ছাত্রসমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করার উদ্দেশ্যেই কমিউনিটি পুলিশের মূল লক্ষ্য। সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গি এবং ইভটিজিং মুক্ত আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে ছাত্র-পুলিশ এক কাতারে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানান রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান।

পুলিশ একাডেমীতে টিআরসিদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

চারঘাট প্রতিনিধি : বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত আইজিপি) মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এনডিসি বলেছেন এ দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তার যে দায়িত্ব তোমাদের উপর অর্পন করা হলো সে দায়িত্ব তোমরা দক্ষতার সাথে পালন করবে। মনে রাখবে পুলিশ জনগণের সেবক এই কথাটি মাথায় রেখে সততার সাথে তোমরা নিজ দায়িত্ব পালন করবে।তা ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে কোন ক্রমেই যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদায় ১৬১তম টিআরসি/২০১৭ ব্যাচের ৭০৪ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের ৬ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষন শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথীর বক্তব্যে অধ্যক্ষ নাজিবুর রহমান এসব কথা বলেন । তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন জনগন নির্যাতনের বিচার চাইতে এসে তোমাদের কাছে যেন নিরাশ না হয়।পুলিশ বিচার করেনা তবে বিচারের খুটি হিসাবে কাজ করে ।
তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল তা বঙ্গরন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করছে । তাই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার দায়িত্ব ও তোমাদের । অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ৫ জন টিআরসি সদস্যকে পদক প্রদান করেন ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ একামেীর পুলিশ সুপার প্রশাসন আনোয়ার হোসেন ও পুলিশ সুপার আবুল খায়েরসহ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ।

পবায় বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

পবা প্রতিনিধি : পবায় বিভাগীয় প্রশাসন রাজশাহীর উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। রোববার বিকালে উপজেলার বায়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি থেকে দুঃস্থদের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর-রহমানের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম ও জেলা প্রশানক হেলাল মাহমুদ শরীফ।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঈদ আলী রেজার পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবা সহকারি কমিশনার (ভুমি) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বাশির, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বায়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোকছেদ আলী, প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ছিন্নমূল জনসাধারণ।

এমপি ফারুক চৌধুরীকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি : রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীকে জড়িয়ে একটি দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় মাদকের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংসদের নাম শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন।
রোববার বিকেল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে একটি বিরাট বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস হতে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক ও শহিদ ফিরোজ চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তরা অভিযোগ করেন রোববার ১৪ জানুয়ারী রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে প্রথম আলো যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যা খবর।
বক্তারা আরও বলেন, সংবাদের প্রতিবেদক অসাধু উপায় অবলম্বন করে টাকার বিনিময়ে এই সংবাদ পরিবেশন করে আওয়ামী লীগ ও সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ক্ষতি করতে চাই। বর্তমান সংসদ সদস্য এই আসনে নির্বাচিত হবার পর হতে এলাকার উন্নয়ন ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেছে। সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন তিনি করেন নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত কোন মামলাও হয়নি।
সংবাদে মাদকের পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলা হয়েছে তা ডাহা মিথ্যা কথা। বরং তিন বিভিন্ন সভাসমাবেশে মাদক হতে দূরে থাকতে সবাইকে সচেতন করেন ও মাদক বিরোধী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নজির আছে। এছাড়াও তিনি স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাদক পাচার বিষয়ক একটি উপকমিটির আহ্বায়ক। তিনি এসব কাজে থাকার প্রশ্নেই আসে না। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন এসব ষড়যন্ত্রের শিকার আর এসব ষড়যন্ত্রের সাথে ইন্ধন আছে কিছু আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দরা। তার নিজেরা ফারুক চৌধুরীর সুনাম ও নেতৃত্বকে নষ্ঠ করতে ও নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে এসব কাজে সহযোগিতা করছে। বক্তরা বলেন আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরা এসব কাজ করে ক্ষতিই করছে। এসব কাজ বন্ধ না করলে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাাদক জয়নাল আবেদীন জনি পৌর যুবলীগ সভাপতি আকবর আলী, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বিপ্লব, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পারভেজ বাবু, সাধারণ সম্পাদক আরব আলী, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।
অপর দিকে একই প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে সন্ধ্যার পর রাজাবাড়ীহাট এলকায় প্রায় ৫শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে বাগমারায় উৎপাদিত পান

বাগমারা প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা সদরের হাট-বাজারগুলোতে সম্প্রতি রাজশাহীর বাগমারায় উৎপাদিত পানের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও বর্তমানে বাগমারায় উৎপাদিত পানের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের জেলা সদরের হাট-বাজারগুলোতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ ট্রাক পান এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রপ্তানী (সরবরাহ) করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারে পানের মূল্য বৃদ্ধি ও বৈদেশিক চাহিদার কারণে এ উপজেলার কৃষকেরা এখন পানচাষে ঝুুঁকে পড়েছেন। চলতি মওসুমে উপজলোর বভিন্নি এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক কৃষক নতুন করে পানবরজ তৈরী করেছেন। পান অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় এ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে এখন নতুন নতুন পানবরজ তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন চাষীরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় প্রায় সাড়ে আট হাজার বিঘা জমিতে পানবরজ রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজার ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পানের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের তুলনায় এখানকার চাষীরা এখন পান উৎপাদনে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ কারণে এ উপজেলায় এবার এত বেশী পানবরজ তৈরি করা হয়েছে যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এক সময় শুধুমাত্র গনিপুর, শ্রীপুর ও শুভডাঙ্গা ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে পানচাষ হত। তবে পান অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় তাহেরপুর পৌর এলাকাসহ মাড়িয়া, হামিরকুৎসা, যোগীপাড়া, গোবিন্দপাড়া, নরদাশ, বাসুপাড়া ও আউচপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে পানচাষ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, বাগমারার গণিপুর, শ্রীপুর, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, গোবিন্দপাড়া ও শুভডাঙ্গা এই ছয়টি ইউনিয়নের দশ হাজার কৃষক পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পানচাষের ওপর নির্ভরশীল। অভাব অনটনে ভরা অস্বচ্ছল ওইসব কৃষক পরিবারে এখন পানচাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। সংসারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। ছেলে-মেয়েদের লিখাপড়া ও ভরণ-পোশনসহ সংসার পরিচালনার যাবতীয় খরচের যোগান আসছে পানচাষ থেকেই। নরদাশ ইউনিয়নের মনোপাড়া গ্রামের পানচাষী আবু জাফর বলেন, বর্তমানে পানবরজ তৈরির উপকরণের দাম ও শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন পানবরজ তৈরিতে খরচ অনেক বেশি লাগছে। তারপরও দেশ-বিদেশে পানের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পান অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় পানচাষ করে কৃষকেরা এখন লাভবান হচ্ছেন। শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বুজরুককৌড় গ্রামের পানচাষী আফজাল হোসেন ও আকবর আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে পানবরজ তৈরি করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এর বিপরীতে উৎপাদিত পান বিক্রয় করে বছরে প্রায় ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ পাওয়া যায়।
এদিকে হাটগাঙ্গোপাড়া, মচমইল, মোহনগঞ্জ, মাদারীগঞ্জ এবং ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌরহাটসহ প্রায় প্রতিটি হাট-বাজরেই এখন সপ্তাহে দুইদিন করে পৃথকভাবে বসানো হচ্ছে পান ক্রয়-বিক্রয়ের হাট। এসব পানের হাট ইজারা থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। আগের তুলনায় বর্তমানে যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পৌঁছে যাচ্ছে তাজা-টাটকা সতেজ পান। এসব মোকাম থেকে বাছাই করা উন্নত জাতের পান রপ্তানী হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে।
তাহেরপুর পৌর এলাকার পান ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ পান উৎপন্ন হয় রাজশাহী জেলার বাগমারা ও মোহনপুর উপজেলায়। এই দুইটি উপজেলার উৎপন্ন পান অত্যন্ত সুস্বাধু ও উন্নতমানের হওয়ায় দেশ-বিদেশে এর চাহিদাও ব্যাপক। এ কারণে বাগমারা ও মোহনপুরের উৎপন্ন পান বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরান, তেহরান, রোমানীয়া, মালোয়েশীয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে।
বাসুপাড়া ইউপির সগুনা গ্রামের কৃষক আয়েন উদ্দিন ও বেলাল হোসেন বলেন, পানচাষে পরিশ্রম বেশি। প্রতিদিনই পান গাছের যতœ নিতে হয়। তারপরও পানচাষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পান নিয়ে গবেষনা না থাকায় পানবরজে একবার মড়ক দেখা দিলে আর রক্ষা নেই। মরে যায় পাতাসহ পানগাছের কান্ড। তারা আরো বলেন, বর্তমানে পানের দাম ভাল এটা সত্যি। কিন্তু এখন পানচাষ করতে হলে বাঁশ বাতা, খড়, চিকন তার এবং শ্রমিক থেকে শুরু করে সব উপকরণই কিনতে হয় চড়া দামে। যার কারণে খরচ অনেক বেশী হয়। চাষীদে অভিযোগ, ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্বেও পানচাষ সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষনার অভাবে এবং বিভিন্ন সমস্যায় প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় পানচাষীরা বার বার লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার পরও তারা হাল ছাড়েননি। তাই উপজেলা পর্যায়ে পানচাষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ পানচাষ বিষয়ে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের আরো সক্রিয় ভুমিকা আশা করছেন পানচাষীরা।
বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে পান অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। এ কারণে এ উপজেলার কৃষকদের মাঝে পানচাষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। তবে কৃষকদের মাঝে পানচাষের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি করার লক্ষে চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

 

মোহনপুরে দুই কেজি গাঁজাসহ আটক ২

মোহনপুর প্রতিনিধি : মোহনপুরের ধুরইলে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহনপুর থানাধীন ধুরইল নাপিতপাড়ার কালিগঞ্জ- খয়রাগামী সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মোহনপুর থানার ধুরইল তালেবপাড়া গ্রামের মোকবুল হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩০) ও গোদাগাড়ী থানার পশ্চিম চকপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুল আলীম (২০)। রবিবার র‌্যাব-৫ রাজশাহী মিডিয়া সেন্টারের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানকালে দুই কেজি গাঁজা, ১টি মোবাইল, ১টি সীমকার্ড ও ১টি মোটরসাইকেলসহ নগদ ১০০টাকা উদ্ধার ও তাদের আটক করে সিপিএসসি, র‌্যাব-৫ রাজশাহী এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকিবুল ইসলাম খান ও সংঙ্গীয় অফিসার ফোর্স।
পরে তাদের বিরুদ্ধে মোহনপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মঈন উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.