1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : namecheap :
  6. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  7. [email protected] : RM Rey : RM Rey
  8. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ বার্তা :
সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ী বেড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সরকারি গাছ কাটার হরিলুট রোশানকে নিয়ে ইকবালের তিন ছবি ইতিহাসের পাতায় সলঙ্গা বিদ্রোহের মহানায়ক মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ বানেশ্বরে শীতার্তদের মাঝে এনসিসি ব্যাংকের কম্বল বিতরণ নতুন তিন সিনেমায় সাইমন-মাহি জুটি পুঠিয়ায় ট্রাক্টর ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর জখম দুইজন ফুলবাড়ীতে কর্মজিবী আদিবাসীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান দৌলতদিয়ায়-পাটুরিয়া ফেরি চলাচল বন্ধ, মাঝ নদীতে ৪ ফেরি রাজবাড়ী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে প্রতিবছর কোটি টাকার উন্নয়ন করা হবে -প্রার্থী পলাশ ঘন কুয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবারও বন্ধ নলডাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু

এ পুলিশ আমাদের নয়

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭
  • ১০ Time View

মঞ্জুরুল আলম পান্না : গত ১৬ জুলাই শাহজালাল নামে এক চার্জ লাইট ব্যবসায়ীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে খুলনার খালিশপুর থানার কয়েক পুলিশ সদস্য। চাঁদা না দেওয়ায় তার দুই চোখ তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ শাহজালালের স্ত্রী রাহেলার। তার দাবি সত্য হয়ে থাকলে এ ঘটনায় খুব বেশি আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, আমাদের সামনে যখন রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার মতো উদাহরণ। কিন্তু দিনের পর দিন আমাদের আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যদের নির্মম আচরণের পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকছে তা ভেবে শিউরে উঠতে হয় সবাইকে।

যদিও খুলনা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছেÑ শাহজালাল ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর স্থানীয় জনতা তার চোখ তুলে নিয়েছে। সত্যিকথা বলতে কি একজন নাগরিক হিসেবে আমার কাছে পুলিশের এসব বক্তব্য সত্য বলে মনে হয় না। পুলিশের ওপর আমার মতো সাধারণ মানুষের এই আস্থাহীনতা একদিনে তৈরি হয়নি। কারণ এ ধরনের ঘটনার প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশ একই বক্তব্য দিয়ে থাকে, যেমন দেয় কথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ বেলায়। বাহিনীটির অসংখ্য সদস্যের দীর্ঘদিনের অমানবিক আচরণ এবং অনৈতিক কর্মকা-ে মানুষ ত্যক্ত-বিরক্ত। তাদের ওপর আস্থা বা নির্ভরশীলতা মানুষের এখন নেই বললেই চলে।

গত বছর রাজধানীর মিরপুরের এক চা দোকানদারের কাছে চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে কেরোসিনের চুলার আগুনে দগ্ধ হতে হয় হতভাগা বাবুল মাতুব্বরকে। তখনো পুলিশ তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। যদিও পরে অবশ্য ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চূড়ান্ত বিচারে অপরাধী পুলিশ সদস্যদের কি হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তবে এটুকু জানি, চাঁদার দাবিতে স্থানীয় মিরপুর থানার কয়েক পুলিশের উপদ্রব থেকে বাঁচতে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারের কাছে মৃত্যুর আগে দুই দফায় আবেদর করেছিলেন চা বিক্রেতা বাবুল।

বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর কথা মনে আছে অনেকেরই। ২০১৬-এর ৯ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরে খালার বাসা থেকে কল্যাণপুরে নিজ বাসায় যাওয়ার পথে হঠাৎ করে রাব্বীর শার্টের কলার পেছন থেকে টেনে ধরে পুলিশ। তার কাছে ইয়াবা আছে এই অভিযোগে আটক করা হয় রাব্বীকে। এক পর্যায়ে বেধড়ক মারপিটের পর মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় তার কাছে, নইলে দেওয়া হয় ক্রসফায়ারের হুমকি। ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদেরকে আটক করে নিজের কাছ থেকে ছিনতাইকারী হিসেবে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তার পায়ে চাপাতির কোপ দিয়ে নির্যাতনের কাহিনীও আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়।

চাঁদার দাবিসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে এ রকম অসংখ্য নিরীহ মানুষের জীবন নষ্ট করে দেওয়ার ভয়ঙ্কর কাহিনী রয়েছে আমাদের সামনে। তার সুষ্ঠু বিচার খুব বেশি হয়নি। চাঁদা, ঘুষ কিংবা অন্য যেকোনো নামে যেকোনো উপায়ে যে কাউকে ফাঁদে ফেলার গুরুতর সব অভিযোগ এখন শোনা যায় হরহামেশাই, যার অধিকাংশই ‘সংবাদ’ হয়ে ওঠে না কখনো। কয়েকদিন আগে ঢাকার আশুলিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতে গিয়ে পুলিশের কাছে অপমানিত এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যার হুমকি দিলে সংশ্লিষ্ট কিছু পুলিশ সদস্যের প্ররোচনায় নিজের গায়ে আগুন ঢেলে দেন রিকশাচালক শামীম শিকদার।

দিনের পর দিন কতিপয় পুলিশের বেপরোয়া আচরণ আর অনৈতিক কর্মকা-ে প্রশ্নের মুখে গোটা পুলিশ বাহিনী। আর এর জন্য অবশ্যই দায়ীÑ প্রকৃত অপরাধীদেরকে বাঁচিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ বিভাগের এক ধরনের ‘অনৈতিক প্রবণতা’। পুলিশের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয়, এ ধরনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ বিভাগের এই বক্তব্যের প্রতিও মানুষ আস্থা রাখতে পারে না। অপরাধীদের প্রতিটি বিচারের খবর জনসম্মুখে প্রকাশ হলে তবেই তা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলোÑ অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কেন, কারোর মাঝেই চোখ তুলে নেওয়া, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা কিংবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো ভয়ানক কোনো অপরাধে প্রবৃত্ত হওয়ার কথা নয়। আর এভাবে চলতে থাকলে বিক্ষুব্ধ জনতা যদি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে তখন তাদের সামলানোটা হয়তো বেশ কঠিনই হয়ে উঠবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com
Theme Customized By BreakingNews