৪৫ বছরেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করার সময় পায়নি কোন সরকার

08এশিয়ানবার্তা: মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি আজও। নিশ্চিত পরাজয় জেনে বাঙ্গালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে এ দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় তালিকা করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী। এরপর ৪৫ বছর কেটে গেছে। যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন হলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই সরকারের কাছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সোমবার বলেন, জানুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই শুরু হবে। এটি শেষ হলে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরির কাজে হাত দেয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকারি তালিকা ছাড়া কিসের ভিত্তিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ হান্নান বলেন, এখনও সরকারিভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কোনো তালিকা করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগঠনগুলোর দেয়া তালিকা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে সেই তালিকা কোনো সরকারি তালিকা নয়।

একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, আমার জানা মতে সরকারিভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কোনো তালিকা তৈরি করা হয়নি। তাদের ওপর ভরসা করে কোনো লাভ হবে না। অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে তালিকা করেছেন। এ বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তবে সরকারিভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একটি তালিকা থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে সে সময় জাতি কাদের হারিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বুদ্ধিজীবী কারা- তার কোনো সংজ্ঞা নির্ধারণ না থাকায় মূলত এ তালিকা করা খুবই জটিল কাজ। সরকারের জন্য এটি চ্যালেঞ্জও বটে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করার পাশাপাশি সরকারের উচিত ইতিহাসের এ জঘন্যতম হত্যাকা-ে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার নিশ্চিত করা। যারা হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা তৈরি করে এবং তাদের সংগঠনের বিচার করতে হবে।

১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হলেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত থেকেই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করতে শুরু করে। তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন করে। সে অনুযায়ী ‘৭১-এর ১১ ডিসেম্বর রাত থেকে শুরু হয় বুদ্ধিজীবীদের আটক করা। তাদের হাত-পা-চোখ বেঁধে গোপন স্থানে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের পরপরই বুদ্ধিজীবীদের নিকটাত্মীয়রা মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ খুঁজে পান।

১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মতান্তরে ২৯ ডিসেম্বর বেসরকারিভাবে গঠিত হয় ‘বুদ্ধিজীবী নিধন তদন্ত কমিশন’। এরপর গঠিত হয় ‘বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটি’। এ কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, রাও ফরমান আলী এদেশের ২০ হাজার বুদ্ধিজীবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.