বগুড়ার শেরপুরে বাঙ্গালী নদী হতে বালু উত্তোলন: হুমকীর মুখে ব্রীজ

03 শেরপুর (বগুড়া) থেকে আব্দুল ওয়াদুদ: শেরপুরের জোড়গাছায় বাঙ্গালী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে রয়েছে বেলগাছি ব্রীজ। ইতিমেধ্যই বেশ কয়েকটি বাড়ী ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং প্রায় অর্ধশতাধীক বাড়ী হুমকির মুখে রয়েছে। আর এই ভাবে বালু উত্তোলন এখনই বন্ধ করতে না পারলে প্রায় বিশ গ্রামের চলাচলের জন্য ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঙ্গালী নদীর উপর নির্মিত বেলগাছি ব্রীজ সহ গ্রামটিই হুমকির মুখে পড়বে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। তাই বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে পুরো গ্রামের লোকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

সরেজমিনে গেলে ওই গ্রামের শিক্ষক ছোলায়মান আলী ছেপ, ইউপি সদস্য আবু ছাইদ রঞ্জু  জানান, আওলাকান্দির রহমত, রফিকুল ও আব্দুল গফুর দির্ঘদিন যাবত বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালূ উত্তোলন করে আসছে। আর এই বালু তোলার কারনে ইতিমধ্যেই ব্রীজের পূর্ব পারে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে, ইতিমধ্যেই ২/৩টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাছাড়া আমাদের গ্রাম সহ প্রায় ৩০টি গ্রামের চলাচলের একমাত্র ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার পর শেরপুর উপজেলার এই সকল গ্রামের চলাচলের জন্য একমাত্র বাহন ছিল নৌকা।

কেননা বাঙ্গালী নদীর উপর কোন সেতু বা ব্রীজ না থাকায় আমরা সব দিক থেকেই অবহেলিত ছিলাম। গত ৪/৫ বছর পূর্বে আমাদের বাঙ্গালী নদীর উপর এই ব্রীজটি নির্মিত হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি এলাকাটিরও অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্ত কয়েক বছর হলো এলাকার বালুদস্যুরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করলে ব্রীজের পূর্বপারে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়। আমরা বিভিন্ন সময়ে এর প্রতিবাদ করলেও কোন কাজ হয়নি। কিন্ত গত বছর ২টি বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ভাঙ্গন আরো প্রকট আকার ধারন করে। এবার যদি এই বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারি তাহলে বর্ষা মৌসুমে যে ভাঙ্গন শুরু হবে তাতে আমাদের এই ব্রীজটি থাকবে কিনা সন্দেহ।

আমরা বালু তুলতে বাধা দিলে তারা নানান ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করে এবং বলে আমি বড় বড় নেতাদের ম্যানেজ করেছি তোমরা আমার কিছুই করতে পারবেনা। ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, এভাবে বালুু উত্তোলন অব্যহত থাকলে শুধু ব্রীজ নয় পুরো গ্রামটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এলাকাবাসি নজরুল ইসলাম, কোব্বাদ, হাবিবুর রহমান, জয়নাল, জামাল, তোফাজ্জল, ফিরোজ, আয়েজ সহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, সে সব সময় নেতা ও প্রশাসন ম্যানেজ করে আমাদেকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছে।

এখন সে লীজ নেয়ার কথা বলছে কিন্ত আমাদের বাড়ী ঘড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাব, তাই বাধ্য হয়ে বালু তোলা বন্ধ করতে যা যা প্রয়োজন সবই করবো। এ ব্যাপারে রহমত আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি এর আগে বালু তুলেছি। বর্তমানে সরকারিভাবে লীজের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছি। তাছাড়া বাঙ্গালী নদী এমনিতেই ভাঙ্গছে। বালু তোলার কারনে নয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম সরোয়ার জাহান জানান, ওই বালু মহল সরকারিভাবে ইজারা দেয়ায় এই মহুর্তে তিনি কিছুই করতে পারছেননা। তবে বালু তুললে কি কি ক্ষতি হতে পারে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.