নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি’র প্রস্তাবনাকে হাস্যকর বলা অযৌক্তিক: মনজুরুল ইসলাম

03 এশিয়ানবার্তা: রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপি’র প্রস্তাবনাকে হাস্যকর, অন্তঃসারশূণ্য বলা অযৌক্তিক। কারণ স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবনা শুধু দল নয় যেকোন নাগরিক বা সুশীল সমাজের মানুষ তুলে ধরলেও সেটিকে হাস্যকর বলার কোন যৌক্তিকতা নেই।

শুক্রবার নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু নতুন নির্বাচন কমিশন নয় বরং কমিশনের নাম প্রস্তাব কমিটিকেও নিবন্ধিত দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে কমিশন গঠন করতে হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার এসব প্রস্তাবকে অন্তঃসার শূন্য বলে প্রত্যাখান করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

এ প্রসঙ্গে মনজুরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির এই প্রস্তাবনা বিশাল কোন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আমার মনে হয় না। কারণ প্রস্তাবটি আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সরাসরি প্রত্যাখান করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের এরকম অবস্থানে ক্ষমতার বাইরের দলের কথা গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার মনে হয় না। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হতে পারে কিন্তু গ্রহণযোগ্য সমাধান খুব দ্রুত হতে পারে বলে মনে হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবনাতে সরকারের সরাসরি প্রত্যাখান বিএনপির ইতিবাচক দিক হতে পারে কি?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় বিএনপির ঘরে কিছু লাভ উঠবে। কারণ আগমী নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে বিশেষ প্রত্যাশা রয়েছে। এখন যদি বিএনপি সেটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে, যদি সেটি কোন রাজনৈতিক চাল না হয়  এবং তারা সত্যিকার অর্থে প্রস্তাবটি দিয়ে থাকে তবে বিএনপির পক্ষে কিছুটা জনমত সৃষ্টি হবে। দেশের ভেতরে এই মতের প্রচলন আছে যে, আগামী নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক।

কয়েক মাস আগে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এটিএম সামসুল হুদা প্রায় একই ধরনের প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। বিএনপি যখন সরকারকে একইরকম প্রস্তাব দিলো তখন সরকার সেটিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি কোন ভাবনা থেকে একই রকমের প্রস্তাব দিতে পারে?

জবাবে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দলীয় অনেকেই জয় লাভ করবেন, এমন বিশ্বাস বিএনপির মধ্যে আছে। ইউনিয়ন কাউন্সিলের নির্বাচন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিভিন্ন প্রতিকূলতার পরেও বিএনপির অনেক প্রার্থী জয় লাভ করেছে। কাজেই তাদের অবস্থান সংহত করার জন্য বিএনপির পক্ষে একটি স্বচ্ছ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএনপি মাঠে নেমেছে।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশন গঠনে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রস্তাবটি রেখেছিলেন। তাঁর সময়ে যে কমিশন ছিলো সেটি মোটামুটিভাবে বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পেরেছিলো। এখন যদি সে ধরণের একটি নির্বাচন কমিশনার আসে তবে লাভ বস্তুত গণতন্ত্রের পক্ষেই যাবে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষমতাসীন সরকার কী ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?

প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যদি এমন হয় যে সরকার পুরনো কায়দায় নির্বাচন কমিশন গঠন করে এবং সেখানে কিছু সত্যিকার ভালো মানুষ থাকেন তাহলে কোন বিতর্ক হবে না। কিন্তু সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন হলে সেটি হয়তো জনগণ গ্রহণ করবে না। আমর বিশ্বাস এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে সরকার সামনের দিকে অগ্রসর হবে। কেননা নির্বাচন কমিশন নিয়ে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহল থেকেও একধরনের চাপ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.