1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৬ অপরাহ্ন

বগুড়ার ধুনটে সেতুর পিলার দেখেই তিন বছর পার

  • Update Time : সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৪০ Time View

07ধুনট (বগুড়া) থেকে জিল্লুর রহমান: বগুড়ার ধুনট উপজেলার সোনারগাঁ গ্রামে মানাস নদীর বুকে পিলার নির্মাণকরেই শেষ হয়েছে সেতুর কাজ। গ্রামবাসী স্বপ্নের সেতুর বদলে তিন বছর ধরে দেখছেন কেবল চারটি পিলার। এদিকে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সোনারগাঁবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকাশী ইউনিয়নের সোনারগাঁ গ্রামকে মানাস নদী দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর পশ্চিমতীরে অধিকাংশ মানুষের বসবাস। সেখানে রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা ও কমিউনিটি ক্লিনিক। নদীর পূর্ব তীরের পরিবারগুলোকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ধর্মীয়সহ নানা কাজে পশ্চিম তীরে আসতে হয়। আবার গ্রামের মানুষের ফসলের জমিগুলো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত।

এজন্য পশ্চিম পাড়ের কৃষাণ-কৃষানীরা নদী পার হয়ে পূর্বতীরের জমিতে ধান, মরিচ, আলু, বেগুন, কাকরল, পোটল, লেবু ও ভুট্টাসহ মৌসুমী ফসল চাষাবাদ করেন। এসব জমির উৎপাদিত কৃষিপণ্য নদী পার করে আনেন পশ্চিম তীরে। বছর জুড়ে মানাস নদীতে পানি থাকে। গ্রামের দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়ে নদী পারাপার হন গ্রামবাসী। সেখানে পানিতে ভিজেই নদী পারাপার হয় গ্রামের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষান-কৃষানী ও মুসল্লীরা। বিশেষ করে অসুস্থ্য রোগী পারাপারে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়।

বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে গভীরতার কারনে পারাপার হওয়া যায় না। তখন স্থানীয় ভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরী করা হয়। সেই সাঁকোর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হোন গ্রামবাসী। এজন্য গ্রামবাসী দীর্ঘদিন যাবত একটি সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছিলেন। সেখানে সেতু নির্মাণ হলে গ্রামের দু অংশের মধ্যে সেতু বন্ধন সৃষ্টি হবে। গ্রামবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বগুড়া জেলা পরিষদ সেখানে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

বগুড়া জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, সোনারগাঁ দক্ষিণপাড়ায় মানাস নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বগুড়া জেলা পরিষদ। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের  বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল প্রকল্পের (এডিপি) আওতায় সেতু নির্মাণের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে ওই অর্থ দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতুর ৪টি পিলার নির্মাণ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেতুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে অর্থ বরাদ্দ হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থ বরাদ্দ হলে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

সোনারগাঁ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আশরাফ আলী বলেন, মানাস নদীর পূর্বতীরে জমিজমা রয়েছে। সেখানে চাষাবাদ করেন গ্রামের অধিকাংশ কৃষক। প্রতিদিন জমিতে যেতে নদী পারাপারের সময় তাদের ভিজতে হয়। আবার পূর্বতীর থেকে পশ্চিম তীরে ক্ষেতের ফসল নিয়ে আসতেও চরম দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। গৃহিনী পারুল খাতুন বলেন, সেতুটি আমাদের প্রাণের দাবী। এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা ভোট নিতেন। এবার সেতু পাওয়ার পর ভোট দিবো।

সোনারগাঁ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হুছনে আরা থাকেন মানাস নদীর পূর্বতীরে। গ্রামের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিদিন পশ্চিম তীরে অবস্থিত বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি বলেন, নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন যাবত গ্রামবাসী দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে নদী পারপারে শিক্ষার্থী ও নারীদের বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া অসুস্থ্য রোগী পারপারেও বিপাকে পরেন রোগীর স্বজনরা।

06সোনারগাঁ গ্রামের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন বলেন, নদীর বুকে যখন সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়, তখন গ্রামবাসী আশায় বুক বাধে। প্রতিদিন গ্রামবাসী ভিড় করে দেখতেন সেতুর নির্মাণকাজ। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৪টি পিলার নির্মাণ করে চলে গেছে। এখন ৩ বছর যাবত শুধু এই পিলার দেখছি আর পানিতে ভিজেই পারাপার হচ্ছি।

বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মকবুল হোসেন বলেন, মানাস নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক অবস্থায় বরাদ্দ দিয়ে ৪টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থ অভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। আগামীতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সেতুর অসম্পন্ন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft