মোংলার সুন্দরবন লোকালয়ে বাঘের উৎপাত,আতঙ্কে এলাকাবাসী

খুলনা ব্যুরোঃ- মোংলার সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্যমারীসহ আশপাশের এলাকায় বাঘের উপদ্রব শুরু হয়েছে। বাঘ আতঙ্কে এলাকাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। খুব প্রয়োজন না পড়লে লোকজন ঘরের বাইরে তেমন একটা বের হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বাঘের আক্রমণে একটি গাভী ও তার পেটের বাচ্চা মারা গেছে। এ ছাড়া বাঘের তাড়া খেয়ে বনের ভেতর থেকে একটি হরিণ লোকালয়ে চলে এসেছিল। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হরিণটিকে লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগের লোকেরা বনে ছেড়ে দেয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, গত সপ্তাহখানেক ধরে সুন্দরবন লাগোয়া বৈদ্যমারীসহ আশপাশের এলাকায় বাঘের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্শ্ববর্তী বনের ভেতর থেকে দু’টি বাঘ লোকালয়ে এসে প্রায়ই হানা দিচ্ছে। শীত মৌসুমে বন ও লোকালয় লাগোয়া খড়মা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ক্ষুধার্ত দু’টি বাঘ গ্রামে প্রবেশ করে গরু মহিষসহ গবাদি পশুর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এতে করে এলাকাবাসী বাঘ আতঙ্কে ভুগছেন। খুব প্রয়োজন না হলে বাঘের ভয়ে লোকজন খুব একটা বাইরে বের হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার বৈদ্যমারী গ্রামের মমিন উদ্দিন মুন্সীর গোয়ালের একটি গাভী সুন্দরবনে প্রবেশ করে। একটি বাঘ হামলা চালিয়ে গাভীর পেছনের অংশ থেকে ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস খেয়ে ফেলে। এ সময় লোকজন আসার আগেই বাঘটি বনের ভেতরে চলে যায়। বন বিভাগের সহায়তায় স্থানীয় লোকজন গাভীটিকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেয়। গাভীর মালিক মমিন উদ্দিন মুন্সী বলেন, বাঘটি গাভীর পেছনের দিক থেকে খেয়ে ফেলেছে। এ কারণে গাভীর পেটে থাকা বাচ্চার দুটি পা বেরিয়ে এসেছে। বাঘের আক্রমণে গাভী ও বাচ্চা উভয়ই হারাতে হয়েছে। এর আগে বুধবার বিকেলে একই এলাকায় বাঘের তাড়া খেয়ে একটি হরিণ লোকালয়ে চলে আসে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হরিণটিকে অক্ষত অবস্থায় বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বন বিভাগের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, সুন্দরবনে অনধিকার গরু প্রবেশ করিয়ে গোচরণ করানোর অভিযোগে গাভীর মালিকের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। ভবিষ্যৎতে যাতে কারো গবাদি পশু বনে প্রবেশ না করে সেজন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে বাঘের আনাগোনা বৈদ্যমারী এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে বনের আশপাশের লোকজনকে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কামরুল হাসান আরো বলেন, বাঘের আনাগোনাটা একটা ভালো দিক। কারণ বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিই এর লক্ষণ। সুতরাং বাঘ আমাদের প্রয়োজন আছে। বাঘের এবং সাধারণ মানুষের জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচেষ্ট রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.