আজ বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত: বাংলায়

এশিয়ানবার্তা:আজ টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুিষ্ঠত হবে। এবার বাংলায় বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত হবার কথা রয়েছে। গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন।

ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিকে ছাড়াই এবারের বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ রোববার। তাঁকে নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এলেও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিয়েই শনিবার ফিরে গেছেন।

মাওলানা সাদ কয়েক বছর ধরে ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা যোবায়ের হাসান বাংলা ভাষায় এবারের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে ইজতেমা সূত্রে জানা গেছে। বেলা ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা।

জানা গেছে, প্রায় ১০০ বছর আগে ইসলামের দাওয়াতি কাজকে ত্বরান্বিত করতে মাওলানা ইলিয়াছ শাহ (রহ.) দিল্লীর নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেন। মাওলানা ইলিয়াছের (রহ.) ছেলে মাওলানা হারুন (রহ.)। তাঁরই ছেলে হলেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী। ২০১৫ সাল থেকে মাওলানা সাদ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন। এর আগে তিনি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুধু তাবলিগের বয়ান দিতেন।

এদিকে নানা বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাওলানা সাদ এবারের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুসারীরা। তাই অর্ধশতাধিক বিদেশি মুসল্লি ইজতেমার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হওয়ার আগেই ময়দান থেকে চলে গেছেন। আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ১১ জানুয়ারি থেকে।

এদিকে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির পদচারণায় কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমাস্থল এখন মুখর। শিল্প নগরী টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জিকির-আসকার, ইবাদত বন্দেগী আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র কোরআনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে।

আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হযরত মাওলানা যোবায়ের হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি। ইজতেমা ময়দানে বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে। এর আগে অনুষ্ঠিত হবে হেদায়েতি বয়ান। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের আসা ও যাওয়া নিরাপদ করতে শনিবার দিবাগত রাত থেকে মোনাজাত অনুষ্ঠান পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানগামী সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। এদিকে এবারও বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে এবারও তাবলিগের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা রেডিও-টিভিতে আখেরি মোনাজাত সরাসরি সম্প্রচারে অনুমতি দেননি। মুরুব্বিদের ছবি তুলতেও বারণ করে দিয়েছে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ। তারপরও কিছু কিছু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইজতেমা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আখেরি মোনাজাত সম্প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছে।

গাজীপুর সিভিল সার্জন সৈয়দ মঞ্জুরুল হক জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় ইজতেমায় আগত রোগীর সংখ্যা শনিবার বেড়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোতে পাঁচ হাজারের বেশি মুসল্লিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের প্রতিটিতেই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে সকাল পর্যন্ত ২৩ জনকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতলে ভর্তি এবং ১৭ জন মুসল্লিকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

ইজতেমার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা জানান, এসব মুসল্লিদের অধিকাংশই হৃদরোগ, অ্যাজমা, পেটেরপীড়া ও ঠান্ডায় আক্রান্ত হন। এছাড়া ইজতেমাস্থলের আশে-পাশের বিনামূল্যে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র গুলোতেও কয়েক হাজার মুসল্লি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিশ্ব এজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে প্রায় ২১টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে। টঙ্গী রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, রোববার আখেরি মোনাজাতের দিন জামালপুর-টঙ্গী একটি, আখাউড়া-টঙ্গী একটি, টঙ্গী-ময়মনসিংহ, লাকসাম-টঙ্গী রুটে বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে। এছাড়াও আখেরি মোনাজাতের আগে-পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা।

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. গাউস আল মুনির জানান, বিশ্ব ইজতেমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু হয়েছে। প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রা বিরতি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.