স্বাধীনদেশে শাওতালদের তির ধোনুক নিয়ে নিরাপত্তায় পাহারা দিতে হচ্ছে লজ্জা থাকা উচিত (ভিডিও)

13গাইবান্ধাথেকে ফারুক হোসেন: জাতীয় মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, বিচার চাওয়া যাতে অপরাধ না হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা এখানে এসছি। সাওতালদের ওপর হামলার ঘটনা পত্র পত্রিকায়সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। সেই সব অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথাবলে মনে হয়েছে সাওতালদের উপর নির্যাতন হয়েছে।

যে কোন ব্যক্তি কোথাও ঘরবাড়ি নির্মান করলে তা আদালতের নির্দেশ ছাড়া উচ্ছেদ করা যায়না।তাই তাদের উচ্ছেদ করা সঠিক হয়নি। এঘটনা এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়নি। এখনো সাওতালরা বাহিরে যেতে পারেনা। স্বাধীনদেশে এখনো শাওতালদের তির-ধোনুক নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তায় পাহারা দিতে হচ্ছে এটি লজ্জা জনক। আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন সংসদের আদিবাসীদের ককাসে উপস্থাপন করা হবে।

জাতীয় আদিবাসি পরিষদের সংশোধীত কমিটির আহব্বায়ক ও ওর্য়ার্কাস পার্টির সম্পাদক  ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লজ্জা থাকা উচিত। আজও সাঁওতালরাদের নিরাপত্তা নেই । তারা নিরাপত্তার স্বার্থে তীরধনুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

প্রফসর ড. মেজবা কামাল বলেন, সাঁওতালদের ওপর বৈশম্যমূলক আচারণ করা হয়েছে। তাদের অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছে।এটা মানবাধিকার রংঘন। অত্যাচারিদের বিচার হবেই।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের  মাদারপুর গির্জার সামনে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সংক্ষিপ্ত সভায় তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (তদন্ত ও অভিযোগ) শরিফ উদ্দিন, সংসদ সদস্য টিপু সুলতান, একেএম ফজলুল হক ও ইউএনডিপি’র চীফ টেকনিশিয়ান শর্মিলা রাসুল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসরিমা নাসরিন, কমিউনিটি এন্ড মাইরেনেট এক্সপার্ট শংকর পাল।

সমাবেশে শেষে তারা গির্জার ঘরের মধ্যে এক এক করে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতাল পরিবারের পক্ষে ৭ জন পুরুষ-নারীকে ডেকে নিয়ে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। পরে তারা সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।  এ সময় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা সাঁওতালদের পক্ষে ৭ জন নারী ও পুরুষের স্বাক্ষ্য নিয়েছি।

বিষয়টি আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবগত করবো।স্বাক্ষ্য গ্রহণের সময় সেখানে সাংবাদিকদের যেতে দেওয়া হয়নি। তবে  ৬ নভেম্বরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালরা কাউকে দায়ী করছেন কি না বা তারা  কি জানিয়েছে- এ প্রসঙ্গে কথা বলেননি তারা। সমাবেশ শেষে দুপুর দু’টার দিকে  তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় সাঁওতালরা বাপ- দাদার জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে।

গত ৬ নভেম্বর  গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে  কেন্দ্র করে রংপুর চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন চার জন সাঁওতাল। এঘটনায় এপর্যন্ত তিন জন সাঁওতাল মারা যান। এসময় সাঁওতালদের ঘরবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাঠ চালায় দূর্বৃত্তরা।

https://youtu.be/X3g3Ewk266Q

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.