জয়পুরহাটের কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এখন কোটিপতি

 

 

 

 

 
bbপাঁচবিবি (জয়পুরহাট) থেকে মোঃ বাবুল হোসেন: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মহীপুর হাজী মহসীন সরকারী কলেজের  বাবুল আখতার ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে কোটিপতি হয়েছেন। পাঁচবিবি শহরের প্রাণ কেন্দ্রে কোটি টাকার আলিশান  বাড়িতে থাকেন তিনি। ৩ লাখ টাকার মোটর সাইকেল হাকিয়ে বেড়ান। পৌর এলাকার আর্দশ স্কুলের পার্শ্বে আরও একটি বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। বগুড়া শহরে ৫০ লাখ টাকায় জায়গা কিনেছেন। কয়েকটি ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে।

১৯৯৭ সালে মহীপুর সরকারী কলেজে ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে চাকুরীতে যোগদান করেন বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার পশ্চিম তেকনি গ্রামের জিল্লুর রহমানের পুত্র বাবুল আখতার। চাকুরী ইলেক্ট্রিশিয়ান পদের হলেও দায়িত্ব পালন করেন ক্যাশিয়ারের। ফলে ভাগ্য বদলের আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়ে যান। অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে গলাগাছে পরিনত হন এই বাবুল আখতার।

জানা গেছে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী, সম্মান শ্রেণীর প্রায় ৪ হাজার ছাত্র/ছাত্রীর ফরম পূরুণসহ কলেজের আনুসাঙ্হিক খাতের কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেন। কলেজের ৩৫ থেকে ৪০টি বিভিন্ন হিসাবের চেক বই তার হাতে। ভর্তি বাণিজ্য , ফরম পূরুণ বাণিজ্য, ছাত্র/ছাত্রীদের টিসি ও সার্টিফিকেট বাণিজ্য সহ ভ’য়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা লুটপাট করেছেন। কলেজে মাস্টার রোলে চাকুরী করেন এমন অনেককে দিতে হয়েছে বাবুল আখতারের নিকট নজরানা। ফলে কোটিপতি হতে বেশি সময় লাগেনি বাবুল আখতারের।

১৯ বছর ধরে এই কলেজে যে সমস্ত অধ্যক্ষ এসছেন তারাও বাবুল আখতারের কথামত চলেছেন। এর ব্যতিক্রম হলে ছাত্র নেতাদের লেলিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষকে অপমান অপদস্ত করতেন বাবুল। অবৈধ টাকায় ছাত্র নেতা নামধারী সন্ত্রাসী পোষেন  বাবুল আখতার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, বাবুল আখতার অধ্যক্ষের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খায়। নারী লোভী বাবুল বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সর্ম্পক গড়ে তুলেছেন।

আপত্তিকর অবস্থায়  ধরা পড়ে টাকা মুচলেকা দিয়ে পার পেয়েছেন। এনিয়ে নারী লোভী বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ছাত্ররা আন্দোলন করলেও কোন ফল পায়নি। স্ত্রী সন্তা থাকার পর ২ বছর পূর্বে মালঞ্চা গ্রামের এক সুন্দরী ছাত্রীর সাথে প্রেম পরিণয় থেকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর ছাড়া ছাড়ি হয়।

সুলতানপুর গ্রামের এক নারী ধর্ষণ  মামলায় ২০০৮ সালে ২২ আগস্ট জেলে যান বাবুল। গত ৩ ডিসেম্বর বিপিএল ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলার সময় বাবুল আখতার সহ ৩জন কে গ্রেফতার করেন পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদন্ড দিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর বাবুলকে জেলে পাঠায়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মহীপুর কলেজের শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্রদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তারা এই কুলাঙ্গার বাবুল আখতারের বহিস্কারের দাবী জানিয়ে বলেন, প্রভাবশালী মহল বাবুল আখতারকে দ্রুত জেল থেকে বের করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এব্যাপারে অধ্যক্ষ বরজান আলী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.