দিনাজপুরে গুলিতে নিহতরা নাটোরের যুবলীগ কর্মী

%e0%a7%a6%e0%a7%acদিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ৩ যুবক নাটোর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ তিন যুবলীগ কর্মী। তাদের পরিবার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে নিহত তিন যুবলীগ কর্মীকে অপহরণের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে নাটোরে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌরযুবলীগ।

নিহতরা হলো- নাটোর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শহরের কানাইখালী এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে রেদওয়ান সাব্বির, একই এলাকার হাফেজ লুৎফর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ ও শহরের কালুর মোড় এলাকার কালু মিয়ার ছেলে সোহেল রানা। তাদের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে।

এদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় একাধিক মামলা ও নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরী আছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার জানায়, গত শনিবার রাতে সদর উপজেলার তকিয়া বাজার এলাকায় কাজ শেষ শেষে যুবলীগ নেতা সাব্বির তার দুই বন্ধু আব্দুল্লাহ ও সোহেল একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিল। রাত ১১টার দিকে সেখানে দুইটি হাইস গাড়ি যোগে ১৫/১৬জন দুষ্কৃতকারী তাদের মারপিট করে গাড়িতে তুলে নিয়ে রাজশাহীর দিকে চলে যায়। এরপর তাদের খোঁজ না পেয়ে সাব্বিরের মা রুখসানা বেগম রোববার সকালে নাটোর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

এছাড়া এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাটোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছিল যুবলীগ।
কিন্তু তার আগেই সোমবার সকালে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রচার হয়। তা দেখে পরিবারের লোকজন সদর থানার মাধ্যমে দিনাজপুরের সংশ্লিষ্ট থানায় খোঁজ নিয়ে ওই লাশগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হন।

সংবাদটি নাটোরে পৌছলে পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়। ওই পরিবারের লোকজন লাশ গুলো নিতে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।

এদিকে নিহতের এ ঘটনার পর সোমবার দুপুরে নাটোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে পৌর যুবলীগ। এতে যুবলীগ নেতারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, যারা যুবলীগের তিন কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব, সদর যুবলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ডাবলু, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক সাঈম হোসেন উজ্জল ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুল ইসলাম বুলেট।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নিহত সাব্বিরের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় হত্যাসহ ১২টি, সোহেলের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা আছে।

এছাড়া নিখোঁজের পর সাব্বিরের মা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.