রাজশাহীতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরীর প্রস্তুতি শুরু করেছে কৃষকরা

12রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দিন: রাজশাহীতে বোরো আবাদের বীজতলা তৈরীর প্রস্তুতি শুরু করেছে কৃষকরা। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের হাত থেকে রক্ষা করতে সময়ের কিছুটা আগেই কৃষকরা বীজতলা ফেলার জমি তৈরী শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বীজও জাগ দিয়েছেন অনেক কৃষক। দুই-একদিনের মধ্যে তারা বীজতলা বোপন করবেন বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, আবহাওয়া ভাল থাকায় কিছুটা আগেই শুরু করতে চান বোরো আবাদের চাষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার হাজার ২৬৭ হেক্টর জমিতে। আর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর।

পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন সরকার, মোহনপুর উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ, তানোর উপজেলার রাতইল গ্রামের নাজমুল হোসেনসহ চাষীরা জানান, ইরি-বোরোর বীজ বোপনের সময় আরো কিছুটা হাতে থাকলেও বীজতলা তৈরি, বপনের কাজটা এবার আগে ভাগেই শুরু করেছেন।

তারা জানান, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুর দিকে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা হলেও এবারে তেমন একটা পড়েনি। কয়েকদিন দেরী হলে শৈত্য প্রবাহের কবলে পড়ে অপরিপক্ক বোরো ধানের চারা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নষ্ট হয় বীজতলার চারাগাছ। চারা সংকটে ইরি-বোরো রোপন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তাই তারা এবার একটু আগাম বীজ বপন করছেন। এসময় বীজ বপন করলে সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া সম্ভব বলে তারা জানান।

আগাম বীজ বোপন সম্পর্কে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, কৃষকদের এমন পদক্ষেপ ভাল। আগাম বীজ বপনের ফলে প্রচন্ড শীতের পুর্বেই বীজতলার চারা সবল হয়ে উঠবে। এতে ঘন শীতেও চারার ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, বীজতলায় ড্রেন তৈরি করলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহজ হবে এবং শৈত্য প্রবাহের সময় কৃষকরা প্রয়োজনে জমিতে পানি দিতে পারবে এবং বের করে দিতে পারবে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে সহজেই চারা উঠানো সম্ভব হবে বলে চাষীদের পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, আগাম বীজ বপনের ফলে কৃষকরা তাড়াতাড়ি জমিতে চারা রোপন করতে পারবেন এবং বৈশাখের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ফলে তারা লাভবান হবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, চাষিরা বীজতলা তৈরী ও বপনের কাজ দ্রুতই এগুচ্ছে। চাষিদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, বীজতলা কুয়াশার আক্রমণ দেখা দিলে রক্ষার জন্য বীজতলা সন্ধ্যার আগে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
এছাড়াও বীজতলায় সন্ধ্যায় পানি দিয়ে রাখা এবং সকালে বীজতলার পানি বের করে দিতে হবে। প্রতিদিনই চারার ওপরে থাকা কুয়াশা দড়ি বা লাঠি দিয়ে টেনে ঝরিয়ে দিলে বীজতলা কুয়াশার কবল থেকে রক্ষা করা যায় এবং ভাল ফল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিভিন্ন উপজেলা কৃষি বিভাগ বীজতলা রক্ষার জন্য চাষিদের এ বিষয়ে করণীয় সম্পকে পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। শেষে তিনি বলেন চাষিদের পরামর্শের জন্য জেলা-উপজেলা কৃষিবিভাগের দরজা সব সময় খোলা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.