1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জে গত চার বছরে ৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যমুনা নদী গর্ভে বিলীন

  • Update Time : শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ২৬ Time View

14সিরাজগঞ্জ থেকে এইচ.এম মোকাদ্দেস: যমুনা নদীর ক্রমাগত ভাঙনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় আবাদি জমি, বসত-ভিটার পাশাপাশি গত চার বছরে প্রায় ৮২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে চলতি বর্ষা মৌসুম এবং গত এক মাসের ব্যবধানে প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, কারিগরি কলেজ সহ প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যে কারনে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমে বিপর্যয় নেমে আসায় ঝড়ে পড়ছে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী।

আর নদী গর্ভে চলে যাওয়া এই বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশের ঠাঁই হয়েছে বাড়ির উঠান অথবা ওয়াবদাবাঁধে খোলা আকাশের নিচে। এ কারনে রোধ-বৃষ্টিতে কষ্ট করে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের সেখানেই ক্লাস করতে হচ্ছে। এছাড়া এখনো ভাঙনের মুখে রয়েছে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এদিকে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছে, নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবন নির্মানে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মান কাজ চলমান রয়েছে।

জানা যায়, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই যমুনা নদীর ক্রমাগত ভাঙ্গনে বসত-বাড়ি, ফসলি জমি, দোকান পাট, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা সহ প্রায় ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রাস করেছে। রাক্ষুসী যমুনা নদীর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্রমাগত ভাঙ্গনে গত চার বছরে বসতিবাড়িসহ প্রায় ১৭ হাজার একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া বাঘুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরছলিমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরছলিমাবাদ মুসলিমিয়া দাখিল মাদরাসা, চৌবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাপানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হিজুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর ছলিমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌবাড়িয়া উত্তর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌবাড়িয়া পূর্ব পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অ্যয়াজি ধুপুলীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,  পয়লা পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরাইল নি- মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৃদাশুরিয়া সরকারী

প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৃদাশুরিয়া পশ্চিম পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দত্তকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য শিমুলিয়া পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, থাক মধ্য শিমুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাফানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাফানিয়া-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, করুয়াজানি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বোয়ালকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাষদেলদার পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌহালী মহিলা ফাজিল মাদরাসা, এসবিএম কলেজ, চৌবাড়িয়া কাগিগরি কলেজ, মুঞ্জুর কাদের কারিগরি কলেজ, দত্তকান্দি কেএম উচ্চ বিদ্যালয়, হাটাইল নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আর আর কে দাখিল মাদরাসা, পয়লা দাখিল মাদরাসা, পয়লা উচ্চ বিদ্যালয়, খাষপুখরিয়া বিএম উচ্চ বিদ্যালয়, চৌহালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,  খাষকাউলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ প্রায় ৮২ টি শিক্ষা

প্রতিষ্ঠান যমুনার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরো অন্তত ৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ঠাঁই হয়েছে বাড়ির উঠান, খোলা মাঠে অথবা ওয়াবদাবাঁধে। এ কারনে ঝড়ে গেছে অন্তত দুই হাজার শিক্ষার্থী। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেঙ্গে যাওয়া ঘরের চালের টিন দিয়ে কোন রকম ছাপড়া তুলে চলছে পাঠদান। এতে রোধ-বৃষ্টি উপক্ষা ও গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে হাপানিয়া এন্ড হাটাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পাঠদানের জন্য ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বরাদ্দকৃত ২১লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একাডেমিক ভবন যমুনার ভাঙনে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসি জানায়, ভবনটি রাক্ষুসী যমুনা এভাবেই গ্রাস করায় ৩০৩জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  জাহাঙ্গীর ফিরোজ জানান, যমুনায় বিলীন হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের জন্য অন্য এলাকায় ঘর তুলে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, যমুনায় বিলীন হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। এবছর বিলীন হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।  নতুন ভবন নির্মান হলে দূর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, যমুনার ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পাঠদানের বিষয়টি সার্বক্ষনিক তদারকি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft