সিরাজগঞ্জে চৌহালীর দক্ষিনাঞ্চলে ৮ কি.মি.এলাকা জুড়ে যমুনার ভাঙন

 

 

 

 

river-photo2সিরাজগঞ্জ থেকে এইচ.এম মোকাদ্দেস : যমুনা নদীতে পানি কমার সাথে সাথে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে তীব্র নদী ভাঙন। গত এক মাসের ব্যবধানে চারটি গ্রামের শতাধিক বসত বাড়ি, ২৫টি দোকান পাট, ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্থরা অন্যের বাড়িতে এবং ওয়াবদা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ভাঙনরোধে নেয়া হয়নি কোন কার্যকর পদক্ষেপ ও দেয়া হয়নি ত্রাণ সহায়তা । তারা ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, চৌহালী উপজেলার দক্ষিাণাঞ্চলের খাষপুখুরিয়া থেকে সীমান্তবর্তী পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকার বাঘুটিয়াপূর্ব, চরছলিমাবাদ, পাথরাইল পূর্ব পাড়া, খাষপুখুরিয়া পশ্চিম ও উমারপুর ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরবর্তী বিনানই, হাপানিয়া ও হাটাইল এলাকায় অসময়ে নতুন করে যমুনা নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চরসলিমাবাদ বাজার, বাঘুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরছলিমাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরছলিমাবাদ মুসলিমিয়া দাখিল মাদরাসা, চৌবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাপানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরছলিমাবাদ ও বাঘুটিয়া কবরস্থানসহ শতাধিক কাচা-পাকা ঘর বাড়ি, তাঁতকারখানা, বাজার, কাঠ ও ফলদ বাগানসহ বহু আবাদি জমি গত ১ মাসের ব্যবধানে যমুনা নদী গর্ভে চলে গেছে।

এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা  আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে উঠেছে। এছাড়া অনেকেই ওয়াবদা বাঁধে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের জন্য পৌছায়নি জরুরী ত্রাণ সহায়তা এবং ভাঙনরোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে বাঘুটিয়ার আলমাস উদ্দিন, জরিনা বেওয়া, জহির প্রাং ও সোলায়মান সহ অনেকেই অভিযোগ করেন । এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকলে চৌবাড়িয়া কারিগরি কলেজ, পয়লা দাখিল মাদরাসা, চরসলিমাবাদ দাখিল মাদরাসা, বিনানই বাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক, হাপানিয়া ও হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবরস্থান, বুতের মোড় বাজার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসভবনসহ চারটি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাবার আশংঙ্ক রয়েছে।

এছাড়া অসময়ের ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে। এব্যাপারে বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দীকি বলেন, উপজেলা সদর এলাকা রক্ষায় নির্মানাধীন তীর রক্ষা বাঁধের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের পাথরাইল পর্যন্ত যমুনা তীরবর্তী এলাকা ভাঙ্গন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে দক্ষিানাঞ্চল মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারী ভাবে অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা এবং ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান ।
এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে। তারা দাক্ষিণাঞ্চল রক্ষায় ৮ কোটি টাকার কাজের একটি আশ্বাস দিয়েছেন।
চৌহালীর  (দায়িত্ব প্রাপ্ত), বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, চৌহালীতে আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি । তবে নদী ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.