রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

05রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন: রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উৎসব মুখর পরিবেশে আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থীকে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। সোমবার পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২২ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮ জন মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা। চেয়ারম্যান পদে যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা হলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুর রহমান ও প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মাদ আলী সরকার। এছাড়া বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব জামান ভুলুকে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে এ নির্বাচন নিয়ে এখনো সাড়া নেয় অন্য দলগুলোর মধ্যে। ফলে অন্যদলগুলো নির্বাচনে না আসলে নিজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হতে পারে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীদের। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী বাছাই করে মনোনয়ন দিয়েছে।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর এ নির্বাচন ভোট দেবেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য। রাজশাহীতে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ১৭১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটে ৮৯৬ ও নারী ভোটার ২৭৫। এ ভোটারা একজন চেয়াম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত করবেন। ১৫টি ওয়ার্ডে ১৫টি ভোট কেন্দ্র ভোট গ্রহন করা হবে।
প্রথম বারের মতো জেলা পরিষদের এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য জমানত নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ভোটার তালিকার সিডির দাম ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মনোনয়ন পত্রে সংগ্রহ করতে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জমা দিতে হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

অপরদিকে, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের জামানত ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর ভোটার তালিকার সিডির দাম সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের এলাকা বিশেষ ১৭ হাজার টাকা থেকে ২৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর সদস্য পদের ভোটার তালিকার সিডির দাম ৩ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ১ ডিসেম্বর। বাছাই ৩ ও ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ ডিসেম্বর।

১ নম্বর ওয়ার্ড: তানোর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও তানোর পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। এগুলো হলো চান্দুড়িয়া, সরনজাই, তালন্দ, কামারগাঁ, কলমা ইউনিয়ন ও তানোর পৌরসভা। এছাড়াও তানোর উপজেলা পরিষদের তিন জনপ্রতিনিধি এ ওয়ার্ডের ভোটার। এই ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র তানোর উপজেলা পরিষদ হল রুম। ভোটার সংখ্যা ৮১। যার মধ্যে পুরুষ ৬২ এবং মহিলা ১৯ জন।

২ নম্বর ওয়ার্ড: তানোর উপজেলার পাঁচন্দর, বাধাইড় ইউনিয়ন, মুন্ডুমালা পৌরসভা এবং গোদাগাড়ি উপজেলার পাকড়ি, মোহনপুর, রিশিকুল ইউনিয়ন ও কাঁকনহাট পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। ভোট কাঁকনহাট সরকারি প্রাথীমক বিদ্যালয়। ভোটার সংখ্যা ৯১। যার মধ্যে পুরুষ ৭০ এবং মহিলা ২১ জন।

৩ নম্বর ওয়ার্ড: গোদাগাড়ি উপজেলা পরিষদসহ উপজেলার গোদাগাড়ি, মাটিকাটা, বাসুদেবপুর, চরআষাড়িয়াদহ, গোগ্রাম, দেওপাড়া ও গোদাগাড়ি পৌরসভা গঠিত এ ওয়ার্ড। ভোট কেন্দ্র গোদাগাড়ি উপজেলা পরিষদ হল রুম। ভোটার সংখ্যা ৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭২ এবং মহিলা ২২ জন।

৪ নম্বর ওয়ার্ড: পবা উপজেলার পারিলা, বড়গাছি, দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ও দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়ন নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র পবার হাটরামচন্দ্রপুর ডিগ্রী কলেজ। ভোটার সংখ্যা ৬৫। এর মধ্যে পুরুষ ৫০ এবং মহিলা ১৫ জন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড: পবা উপজেলা পরিষদসহ উপজেলার হড়গ্রাম, হরিপুর, দামকুড়া, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন ও নওহাটা পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র পবা উপজেলা পরিষদ হল রুম। ভোটার সংখ্যা ৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ এবং মহিলা ১৬ জন।

৬ নম্বর ওয়ার্ড: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সকল ওয়ার্ডসহ পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়ন ও কাটাখালি পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। ভোট কেন্দ্র কলেজিয়েট স্কুল। ভোটার সংখ্যা ৬৭। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ এবং মহিলা ১৬ জন।

৭ নম্বর ওয়ার্ড: মোহনপুর উপজেলা পরিষদসহ উপজেলার বাকশিমইল, ধুরইল, ঘাসিগ্রাম, জাহানাবাদ ও রায়ঘাটি ইউনিয়ন এবং কেশরহাট পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড। ভোট কেন্দ্র মোহনপুর উপজেলা পরিষদ হল রুম। ভোটার সংখ্যা ৮১। এর মধ্যে পুরুষ ৬২ এবং মহিলা ১৯ জন।

৮ নম্বর ওয়ার্ড: দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদসহ এই উপজেলার পানানগর, কিসমতগণকৈড়, জয়নগর, দেলুয়াবাড়ি, নওপাড়া ও দুর্গাপুর পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। ভোট কেন্দ্র উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ। ভোটার সংখ্যা ৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬২ এবং মহিলা ১৯ জন।

৯ নম্বর ওয়ার্ড: পুঠিয়া উপজেলা পরিষদসহ উপজেলার পুঠিয়া, ভালুকগাছি, শিলমাড়িয়া, জিউপাড়া ইউনিয়ন ও পুঠিয়া পৌরসভা এবং দুর্গাপুর উপজেলা মাড়িয়া ইউনয়ন নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। ভোট কেন্দ্র পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ হল রুম। ভোটার সংখ্যা ৭৭ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫৮ এবং মহিলা ১৯ জন।

১০ নম্বর ওয়ার্ড: বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, নরদাশ, গোবিন্দপাড়া, সোনাডাঙ্গা ও আউনপাড়া ইউনিয়ন নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। ভোট কেন্দ্র বাইগাছা উচ্চ বিদ্যালয়। ভোটার সংখ্যা ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬০ এবং মহিলা ১৮ জন।

১১ নম্বর ওয়ার্ড: বাগমারা উপজেলা পরিষদসহ এই উপজেলার কাচারী কোয়ালীপাড়া, দ্বীপপুর, বড়বিহানালী, শ্রীপুর, গণিপুর ইউনিয়ন ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। ভোট কেন্দ্র ভবানীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভোটার সংখ্যা ৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬২ এবং মহিলা ১৯ জন।

১২ নম্বর ওয়ার্ড: বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা, যোগিপাড়া, মাড়িয়া, ঝিকড়া ও তাহেরপুর পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। ভোট কেন্দ্র শিকদারী বাজারের সাঁকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভোটার সংখ্যা ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯ এবং মহিলা ১৯ জন।

১৩ নম্বর ওয়ার্ড: পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর, বানেশ্বর এবং চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর, সরদহ, নিমপাড়া ও শলুয়া ইউনিয়ন নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। ভোট কেন্দ্র বানেশ্বর কলেজ। ভোটার সংখ্যা ৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬০ এবং মহিলা ১৭ জন।

১৪ নম্বর ওয়ার্ড: বাঘা উপজেলার পরিষদসহ উপজেলার মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া ইউনিয়ন ও বাঘা পৌরসভা এবং চারঘাট উপজেলা পরিষদসহ এই উপজেলার চারঘাট, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন ও চারঘাট পৌরসভা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। ভোট কেন্দ্র চারঘাট রাওথা কলেজ। ভোটার সংখ্যা ৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬১ এবং মহিলা ১৯ জন।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড: বাঘা উপজেলার বাউসা, আড়ানী, বাজুবাঘা, গড়গড়ি, চকরাজাপুর ইউনিয়ন ও আড়ানী পৌরসভা নিয়ে গঠিতে এ ওয়ার্ড। ভোট কেন্দ্র তেঁতুলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ভোটার সংখ্যা ৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৬ এবং মহিলা ১৭ জন।
এ ছাড়াও সাধারণ আসন ১,২ ও ৩ নিয়ে সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ আসন ৪, ৫ ও ৬ নিয়ে সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ আসন ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ আসন ১০,১১ ও ১২ নিয়ে সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ আসন ১৩, ১৪ ও ১৫ ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.