রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ ছাত্রদলের সংঘর্ষ: এক সপ্তাহের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ

05রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন: রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এসময় শিবিরকর্মী সন্দেহে এক ছাত্রকে পিটিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই ছাত্রকে উদ্ধারে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। ঘটনার পর ওই দিনের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, রাজশাহী কলেজে এক সপ্তাহের জন্য সকল রাজনৈতিক মিছিল ও সমাবেশ বন্ধ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী কলেজ উপাধ্যক্ষ আল-ফারুক চৌধুরী কলেজে সকল রাজনৈতিক মিছিল ও সমাবেশ বন্ধের কথা নিশ্চিত করে বলেন, কলেজে এ অপ্রতিকর ঘটনার পর কলেজে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এমন পরিস্থিতির কারনে কলেজে এক সপ্তাহের জন্য রাজনৈতিক মিছিল ও সমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে দলীয় টেন্ট থেকে মিছিল বের করে কলেজ শাখা ছাত্রদল। মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো নেতাকর্মীরা। ওই সময় ছাত্রাবাসের দিক থেকে মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছায় ছাত্রলীগ।

প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। বেধে যায় সংঘর্ষ। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়ায়। দৌড়ে পালানোর সময় কলা ভবনের সামনে থেকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে ধরে ফেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শিবিরকর্মী সন্দেহে তাকে বেয়ালিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদত হোসেন খানের সামনেই শুরু করেন দেদম মারধর। পরে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। ওই ছাত্রকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জমান ও আবু নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। মারাত্মক আহত হয়ে ছাত্রকে পরে পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ।
খবর পেয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার কলেজ ক্যাম্পাসে হাজির হন। তার নেতৃত্বেই মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

04এবিষয়ে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, শহীদ জিয়াবুল হক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগের পূর্বনির্ধারিত শোকর‌্যালি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একত্রিত হয়ে মিছিল করে। তারা উস্কানিমূলক শে¬াগান দেয়। এনিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিলো। তবে কোন সংঘর্ষ হয়নি। পুলিশের সামনে কাউকে মারধরও করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান ওসি।
এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান জানান, মিছিলের আগে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল কেউই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয় নি। এ ঘটনায় সংগঠন দুটির বহিরাগতরাই দায়ি। তারা বিয়ষটি খতিয়ে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.