সাংবাদিক আজাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে নওগাঁয় মানববন্ধন

05নওগাঁ থেকে আতাউর শাহ্: নওগাঁ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রথম সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ও জেলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক আজাদ হোসেন মুরাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে নওগাঁয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় শহরের লিটন ব্রীজ স্বাধীনতা ভাস্কর্য পাদদেশে জেলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে এসময় সাংবাদিক এমদাদুল হক সুমন, হাফিজুর রহমান, কায়েস উদ্দিন, এবিএম রফিকুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান রতন, আব্দুর রশিদ তারেক, আসাদুর রহমান জয়, বেলায়েত হোসেন, কাজী কামাল, রামিম দেওয়ান, একুশে পরিষদ নওগাঁ’র উপদেষ্টা বিন আলী পিন্টু, খেলা ঘরের ওয়াদুদ, এসিডি’র এরিয়া ইনচার্জ তারেক আর রহমান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দনরায়নপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে জেলার বহুল আলোচিত ভন্ড কবিরাজ জাহাঙ্গীর আলম স্বপন। গত ৫/৬ বছর আগে হঠাৎ করে তার বাড়ির সামনে ভন্ড কবিরাজ স্বপন মাজার শরিফের জ্বিন ও মাসনা (ভূত-পেত) তারানোর নামে ঝাড়-ফোক ও অপচিকিৎসা কবিরাজের ব্যবসা খুলে বসেন।

প্রথম পর্যায় একটি চক্রের মাধ্যমে দিয়ে এ প্রতারণা চিকিৎসা শুরু করেন। বছর খানেকের মধ্যেই স্থানীয় একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এ চিকিৎসা খবর ছড়িয়ে দেয় বিভিন্ন অঞ্চলে। এরপর প্রতিদিন সকালে ছুটে আসা শত শত সাধারণ মানুষদের ঝাড়-ফোক দিয়ে চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আর চিকিৎসার নামে রোগীদের মারপিটও করা হয়।

এ নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বার বার আইনের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় গত বছর ১৮ নভেম্বর ঝাঁড়-ফোক ও অপচিকিৎসার করার সময় নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মোজাহার হোসেন পুলিশের সহযোগিতায় হাতেনাতে আটক করেন। পরে ওই দিন রাতেই স্বপনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁকে ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। জেল খেটে বের হয়ে আসার পর তিনি আবারও প্রশাসনের নাকের ডগায় তাঁর পুরনো পেশায় ফিরে যান।

শুরু করেন আবারও ঝাঁড়-ফোক ও অপচিকিৎসা। এমতাবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ ছাড়াও ভন্ড কবিরাজ স্বপন অন্যান্য মামলায়ও গ্রেফতার হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর ভ- কবিরাজ স্বপনের বিভিন্ন অপচিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন সাংবাদিক মুরাদ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

ভ- কবিরাজ তাঁর অপকর্ম ঢাকতে পরবর্তীতে সাংবাদিক আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের পর কোনোরকম অনুসন্ধান কিংবা তদন্ত ছাড়া ও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই গত ৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিক আজাদ হোসেন মুরাদকে গ্রেফতার করে। মানববন্ধনে জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সচেতন মহল অংশ গ্রহণ করে।

বক্তারা সাংবাদিক আজাদ হোসেন মুরাদকে গ্রেফতারের ঘটনা দুঃখজনক ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এছাড়া ভ- কবিরাজের অপচিকিৎসা বন্ধে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। অবিলম্বে তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর থেকে কঠোরতম আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.