বগুড়ার নন্দীগ্রামে উদ্বোধনের দশ বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল

12নন্দীগ্রাম (বগুড়া) থেকে মাসুদ রানা : জনবল নিয়োগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করার দীর্ঘ সাত বছরেও চালু হয়নি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকায় নির্মিত হাসপাতালটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

এছাড়াও বর্তমানে হাসপাতালটিতে স্থানীয় ব্যাবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও, জনবল, পানি, নৈশ প্রহরী ছাড়াও নেই কোন পিওন। উপরন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তর জমেছে। ঘুনপোকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা-জানালার কপাট।

স্থানীয়রা হাসপাতালটির এই বেহাল দশার জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দলকেই দায়ী করছেন। তাঁদের অভিযোগ, জনবল নিয়োগ না দিয়ে শুধু রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতে বিএনপি সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটির লোক দেখানো উদ্বোধন করা হয়। অন্যদিকে বিএনপি সরকার আমলের প্রকল্প হওয়ায় দলীয় সংকীর্ণতা থেকে বর্তমান সরকার হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রামের ৩১শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কের  অবস্থান উপজেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে বিজরুল বাজারে। একারণে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তোলেন স্থানীয়রা। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১-০২ অর্থবছরে পৌর সদরে ২০শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় তিন কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২০০৫ সালে এর কাজ শেষ হয়। কিন্তু জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮অক্টোবর তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করেন তৎকালীন সাংসদ ডাঃ জিয়াউল হক মোল¬া। সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকাসহ ১৩টি পদ রয়েছে। ২০০৮সালে চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য পদে ছয় কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

অল্প দিনের মাথায় একজন ছাড়া অন্যরা অন্যত্র চলে যায়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে দুইজন এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে আউটডোর চালু করা হয়েছে। আরও দুইজন ডাক্তার কে নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা বীজরুল হাসপাতালে ডিপুটেশনে কর্মরত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া আর কোনো সেবা দেওয়া যায় না এ হাসপাতালে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে ঔষধ না থাকায় চিকিৎসা কর্যিক্রম দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও পানি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানা এলএলবি বলেন, রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতেই জনবল নিয়োগ না দিয়ে বিগত সরকার আমলে তড়িঘড়ি করে এ হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। যে কারনে হাসপাতালটির সেবা থেকে সাধারন মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসএ) তোফাজ্জল হোসেন জানান, হাসপাতালটি পুরোপুরি ভাবে চালু করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.