পাবনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কান্ড; কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ

04পাবনা প্রতিনিধি : ক্লাশ চলাকালীন সময়ে স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানোর মতো ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তহমিনা খাতুন। শনিবার বেলা ১২টার সময় প্রখর রোদে স্কুলের আঙ্গিনায় পড়ে থাকা মাটি টানার কাজটি করানো হয় কোমলমতি ওই সব শিক্ষার্থীদের দিয়ে। এ ঘটনায় ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, আসনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য স্কুল আঙ্গিনায় ফুলের বাগান করা হচ্ছে। এজন্য বাইরে থেকে ট্রাক্টরে করে মাটি আনা হচ্ছে। সেই মাটি সরানোর জন্য শ্রমিক না নিয়ে স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজটি করানো হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১২টার সময় প্রখর রোদে ওই শিক্ষার্থীদের বেঁতের ভয় দেখিয়ে কষ্টদায়ক এই কাজটি করানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মারের ভয় দেখিয়ে ওই মাটি কাটার কাজটি করানো হয়। তারা আরো বলেন, প্রায় দিনই তাদের দিয়ে স্কুলের মাঠে পড়ে থাকা নোংড়া কাগজ তুলে পরিস্কার করতে হয়। এসব কারণে স্কুলে যাওয়া আসা করতে চাচ্ছে না অনেক শিক্ষার্থী।

এদিকে অপর একটি সুত্র জানায়, স্কুলের সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে চাঁদা তুলে আয়ার বেতন প্রদান করা হয়। যা নিয়ম বর্হিভূত বলেও জানা গেছে। অভিভাবক মাসুম রেজা ন্যাক্কার জনক এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমরা আমাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছি পড়াশোনা করানোর জন্য, শ্রমিকের কাজ করার জন্য নয়। অথচ প্রধান শিক্ষিকা আমাদের সেই শিশু সন্তানদের দিয়ে সেই শ্রমিকের কাজ করিয়ে চরম অন্যায় করেছেন। আমরা এর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তহমিনা খাতুন বলেন, স্কুলে ফুলের বাগান করার জন্য মাটি আনা হয়েছে। সেই মাটি চুরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাটি সরানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ ফাতেমা বলেন, বিষয়টি শুনেছি, যদি ঘটনা সত্যি হয় তবে এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.