কাজিপুরের চরে উন্নয়নের বিপ্লব মানুষ স্বপ্ন দেখে উন্নত জীবন যাপনের

13কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে টি এম কামাল: চারিদিকে প্রমত্তা যমুনা। মাঝখানে বিশাল বিস্তীর্ণ চর। ভাগ্যবিড়ম্বিত, অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের বসবাস এই চরে। খরা, জরা এবং বৈরী প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই মানুষের কাছে নারী শিক্ষা, বৈদ্যতিক বাতি টেলিভিশন, পাঁকা সড়ক, দালান কোঠা, হাসপাতালে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, মার্কেট, ল্যাপটব এসবই ছিল স্বপ্ন। কার্তিক মাস ছিল তাদের জন্য অভিশাপের মতো। সেই চরে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটেছে।

যমুনা নদীর এই দুর্গম চরে ইট, খোয়া বালু ও সিমেন্টে দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট দালান কোঠা। পাঁকা সড়ক, সোলার, বিদ্যুত, মোবাইল, টিভি, ডিশ এন্টিনা, কিন্ডার গার্টেন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি সবই আছে। মোটর সাইকেল, রিক্সা ভ্যান, ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা, ইঞ্জিন চালিত ভটভটি, ঘোড়ার গাড়ি রীতিমত পাঁকা সড়ক দিয়ে চলাচল করে। গড়ে উঠেছে মার্কেট, যানবাহনের খুচরা যন্ত্রাংশ, শাড়ি লুঙ্গি, জুতা, দুল ফিতা, শার্টিং স্যুটিং সবই পাওয়া যায় ওই সব মার্কেটে। মার্কেটের কোন কোন ব্যবসায়ী ল্যাপটব কিংবা কম্পিউটরে হিসাব নিকাশ করেন।

আধুনিক অনেক প্রযুক্তির সাথেই এখন চরের মানুষ পরিচিত, অনেকেই ব্যবহারও করেন। পাটখড়ির বেড়া সম্মলিত কুঁড়ে ঘর বা ছোন কাইশার ছাপড়া ঘর চোখেই পড়ে না। নিদেনপক্ষে দুই চালা টিনের ঘরে বসবাস। ঢেঁকিতে ধান ছাটাই কম পরিবারেই হয়। ভ্রাম্যমান মেশিনে ছাটাই করা হয় ধান। বাল্য বিয়ে, অশিক্ষা দূর হয়েছে অনেক আগেই। নারী শিক্ষার হারও বেড়েছে। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। হতদরিদ্রতা এখন শিকলে বাঁধা। শহরের সাথে তাল মিলিয়ে চরের বেশীরভাগ মানুষ জীবন যাপন করে। উন্নয়নের সিড়ি বেয়ে তর তর করে চরের মানুষ আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে। এরা এখন স্বপ্ন দেখে উন্নত জীবন যাপনের। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের দুর্গম চরাঞ্চল নাটুয়ারপাড়া সরেজমিন ঘুরে চরের মানুষের জীবনযাত্রার এমন অভাবনীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। শুধু নাটুয়ারপাড়া নয় কাজিপুরের চর এলাকা নিশ্চিন্তপুর, তেকানী, খাসরাজবাড়ি, চরগিরিশ, মনসুরনগর এবং মাইজবাড়ি ইউনিয়নেও অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। আর এর পেছনে অবদান রেখেছেন সিরাজগঞ্জের মাটি ও মানুষের সন্তান সিরাজগঞ্জ -১ নির্বাচনী এলাকার বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মাত্র পাঁচ/সাত বছর আগেও যমুনার চরে যারা বসবাস করতেন, তারা ছিলেন ভাগ্যবিড়ম্বিত, অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষ। নদী ভাঙ্গন, খরা, জরা এবং বৈরী প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে তারা বেঁচে থাকতেন। বৈদ্যতিক বাতি কী জিনিস, টেলিভিশন কেমন দেখায়, পাঁকা সড়ক, দালান কোঠা, হাসপাতালে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, মার্কেট ল্যাপটব এসবই ছিল তাদের কাছে স্বপ্ন। কার্তিক মাস এলেই চরের মানুষ অনাহার, অসুখ বিসুখ এবং মৃত্যু আতংকে বিষন্ন হয়ে উঠেছে। কার্তিক ছিল তাদের জীবনে অভিশাপের মতো। চরের ধু-ধু বালিয়াড়িতে ফসল ছিল না। মাঠে ছিল শুধু চৈতালী ফসল।

এই ফসল বলতে চীনা বাদাম, কাউন, তিল, ডাল, আউস ধানের আবাদ ছাড়া কোন ফসলের মুখ দেখেনি চরের মানুষ। সেই চরে এখন ফসল ফলে। যমুনা নদীকে শাসন করে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হয়েছে। চরের জমি উঁচু হয়েছে, জমিতে পাট, ধান (আউস, আমন), মরিচ কলাই, সরিষাসহ নানা ফসল উৎপাদন হয়। ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। দালান কোঠা গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃস্টি হয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কর্মমুখী হয়েছে।

নারী শিক্ষার অগ্রগতি হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার জন্য নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের প্রত্যেক স্থানে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করে তিন তলা বিশিস্ট ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। স্কুল কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটেছে। শুধু মাত্র নদী ভাঙ্গন রোধে কার্য্যকরী পদক্ষেপ ও তৃণমূলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের সদিচ্ছার কারণে যমুনা নদীর দুর্গম চরে এমন অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারের চর জীবিকায়ন প্রকল্প, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) বাড়ি উঁচুকরন, শাকসব্জীর আবাদসহ হাঁস, মুরগী ও গরু-ছাগল পালন প্রকল্পে চরের মানুষের জীবন যাত্রারমান প্রাথমিক এক ধাপ এগিয়ে যায়। চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিয়ে কাজিপুর উপজেলা অওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী এ প্রতিনিধিকে বলেছেন, যমুনার ভাঙ্গনে বিপন্ন কাজিপুরের মানুষের ঠিকানা আওয়ামীলীগ, নৌকা ্এবং জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর পরিবার। কেবলমাত্র আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলেই কাজিপুরবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। চরের মানুষসহ কাজিপুরের উন্নয়ন হয়েছে।

উন্নয়ন করেছেন শহীদ এম, মনসুর আলী। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ -১ (সিরাজগঞ্জের একাংশ-কাজিপুর) নির্বাচনী এলাকার বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় নেতা  স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং তারই সন্তান ও রাজনৈতিক উত্তরসুরী সাবেক এমপি প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় করছেন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজিপুরের চরাঞ্চল ও সমতলভুমির মধ্যে তেমন কোন ফারাক নেই। কাজিপুরের চরের মানুষকে শুধু মাত্র প্রশাসনিক কাজে উপজেলা সদরে আাসা ছাড়া অন্য কোন কাজে আসতে  হয়না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.