সাদুল্লাপুরে শিবির ক্যাডারকে পুরস্কৃত ও আ’লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : 
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দুর্ধষ শিবির ক্যাডার নাশকতাসহ ১৮টি মামলার আসামি মাইদুল ইসলামকে পুরস্কার দেয়া নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সাদুল্যাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে আ’লীগের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহীদ মিনার চত্তরের দলীয় কার্যালয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও মৎস্যজীবিলীগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘সাদুল্লাপুরের মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম মাইদুল ইসলাম। দুর্ধষ শিবির ক্যাডার মাইদুল ইসলাম ভোট কেন্দ্র পুড়ে দেয়া, রাস্তার গাছ কাটা, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ১৮ মামলার আসামি। শিবিরের সাবেক উপজেলা সভাপতি মাইদুল ইসলাম গত ৫ জানুয়ারীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য রাস্তাঘাটে কবর খনন করেছিলো। 
এছাড়াও ২০১৫ সালে উপজেলার দামোদরপুর বুড়িরভিটায় ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বাঁধা দিয়েছিলো শিবির ক্যাডার মাইদুল ইসলাম। তাই এমন একজনকে উপজেলা পরিষদের প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সুযোগ এবং তার হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খাঁন বিপ্লব শুধু আইন ভঙ্গই করেননি, বর্তমান সরকারের নীতি আদর্শের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন’।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তেব্যের একটি অংশে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জামাত-বিএনপির একটি অংশ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীরা ইউএনওর পদক্ষেপের বিরোধী করছে। অথচ কেন্দ্রীয় জামায়াতের তালিকাভুক্ত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মুন্সির প্রতিনিধি হিসেবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে প্রতিনিধিত্বকারী, তাই তার মুখেই এমন বক্তব্য পুরোপুরি হাস্যকর। একই সঙ্গে সেদিনের বক্তব্যে কুখ্যাত অপরাধীকে আড়াল করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে দাবি করেন’। 

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাদুল্লাপুরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ীর গড ফাদার কে, তা থানার সাবেক ওসি আরশেদুল হক বলে গেছেন। কোন জনপ্রতিনিধি মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন তা থানার রিপোর্ট দেখলে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের সেদিনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার এহেন কর্মকান্ডের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোড় দাবী জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। 

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শাহ্ মো. ফজলুল হক রানা, সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক আকন্দ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক এশরাফুল কবীর আরিফ, যুগ্ন আহবায়ক আশরাফুল ইসলাম আশিক, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রিপন, মৎস্যজীবিলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী এবং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও মৎস্যজীবিলীগের নেতা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ, গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের আলোচনা সভায় গাইবান্ধার ‘সাদুল্যাপুরের উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক কথিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শিবির ক্যাডার মাইদুলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ। পরে পুরস্কার বিতরণের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা বির্তক ও সমালোচনাসহ তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.