দিনাজপুরে গবাদি-পশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ: খামারি দিশেহারা(ভিডিও)

শাহ্ধসঢ়; আলম শাহী,বিশেষ প্রতিবেদক,দিনাজপুর থেকেঃ করোনার ভয়াবহতার মধ্যেই
আতঙ্ক ছড়াছে এলএসডি বা লাম্পি স্কিন রোগের ভাইরাস। ঈদ-উল আযাহা অর্থাৎ
কোরবানী ঈদের আগে এই চর্মরোগটি গবাদিপশুর মাঝে ছড়িয়ে পড়ায় দিশেহারা
হয়ে পড়েছেন দিনাজপুরের গো-খামারিরা। নতুন এই রোগের আক্রোমণে বেশ কিছু
গরুর প্রানহানীও ঘটেছে। তবে,প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি
সাধারণ একটি রোগ। সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে সহজে কাটিয়ে ওঠা
সম্ভব।তাই,গবাদিপশুকে বাঁচাতে দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন প্রাণী সম্পদ বিভাগের
সংশ্লিষ্টরা।তবে,প্রাণি সম্পদবিদরা বলছেন,জটিল এ রোগ’টির সুনিদিষ্ট
চিকিৎসা নেই।সঠিক চিকিৎসা পেলে এই রোগ থেকে সহজে কাটিয়ে ওঠা
সম্ভব।
দিনাজপুরে নিবন্ধিত এক হাজার ৪’শ গো-খামারে প্রায় ১৭ লাখ গরু রয়েছে। এ
অঞ্চলে গরুর মধ্যে লাম্পি নামের একটি চর্মরোগ দেখা দেয়ায় খামারিরা বিপাকে
পড়েছেন। এই রোগটি বিশ্বে পুরাতন হলেও গত বছর (২০১৯) এই রোগ দেখা দেয়
বাংলাদেশে। তবে এ জেলায় রোগটি চলতি মাসের (জুন) শুরুর দিকে সদর,
কাহারোল,বোচাগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় বেশ কিছু গরুর গায়ে দেখা দেয়। গরুর
গায়ে প্রথমে পক্সের মত বের হয়ে ছড়িয়ে পরে পুরো গায়ে। এরই মধ্যে বেশ কিছু গরুর
প্রানহানীও ঘটেছে। নতুন এই রোগটি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারীসহ
গৃহস্থিরা। বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতোইল ইউনিয়নের মাহেরপুর গ্রামের কৃষক ররিউল
ইসলাম জানালেন,তার ৭ টি গরুর মধ্রে ৫টি গরুই আক্রান্ত হয়,এই এলএসডি বা
লাম্পি স্কিন রোগে। তার একট গরু মারাও গেছে। এথন সুস্থু’র পথে। কাহারোল
উপজেলার সুকুমার রায় জানান,তারও একটি গরু মারা গেছে এই রোগে।
তবে,বর্তমানে প্রাণি সম্পদ দপ্তরের চিকিৎসকরা বাড়ি বাড়ি এসে খবর
নিচ্ছেন,কারো গরু এই রোগে আক্রান্ত কি না এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসার পরামর্শ
দিচ্ছেন তারা।
সরজমিনে দেখা গেছে,দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ক সদর, কাহারোল,বোচাগঞ্জ
ও খানসামা উপজেলার প্রায় বাড়িতেই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একাধিক পশু
রয়েছে।রোগে আক্রান্ত পশুর প্রথমে সামনের পা ফুলে যায়। তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরে
বড় বড় গুটি দেখা দেয়। এক সপ্তাহ পরে গুটিগুলো গলে গিয়ে স্থানে স্থানে ঘা হয়। ঘা
থেকে অনবরত তরল পদার্থ নিঃসৃত হতে থাকে। কখনো সিনার নিচে বড় থলির মতো
হয়ে পানি জমে থাকে। তখন কিছুই খেতে চায় না বলে গবাদিপশু শুকিয়ে যায়। সংক্রমণ
বেশি হলে পশু মারাও যেতে পারে। তবে এতে মৃত্যুহার খুবই কম।অনেক খামারী বলছেন
সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা নেয়ার কারনে খামারের গরু রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তবে তারা নিয়মিত ডাক্তারি পরামর্শে রয়েছেন।
গবাদিপশুর চিকিৎসা করতে হিমসিম খাচ্ছেন খামারিরা। তবে,প্রাণিসম্পদ অফিসের
ভেটেররিনারি সার্জনের পরামর্শক্রমে তারা আক্তান্ত পশুর চিকিৎসা প্রদান করছে। অধিক
তাপমাত্রার কারনে এই রোগের আবির্ভাব। তবে এই চর্ম রোগ বড় গরুর চেয়ে বাছুর
গরুতে বেশি আক্রমন করে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সময় মত চিকিৎসা গ্রহন করলে
পুরোপুরি সুস্থ করানো সম্ভব বলে মনে করছেন দিনাজপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাহিনুর আলম।
তবে,এই প্রাণিসম্পদবিদদিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-
ফেসবুকে এক বার্তায় জানিয়েঝেন,ল্যাম্পি স্কিন রোগটি’র সুনির্দিষ্ট
কোন চিকিৎসা নেই। এর এখনো কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাই
গরুর মালিকদের গোয়াল ঘর পরিষ্কার করা ও মশা মাছি নিয়ন্ত্রণ করতে পরামর্শ
দিয়েছেন তিনি। আক্রান্ত গরুর অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশান, ব্যাথানাশক

ট্যাবলেট ও অ্যান্টিহিস্টামিন দিয়ে চিকিৎসা চালাতে হবে। তবে এ রোগে গরুর
মৃত্যুর হার একেবারেই কম।
ঈদ-উল আযাহা অর্থাৎ কোরবানি ঈদের আগে গবাদি পাশুর মাঝে লাম্পি স্কিন
ডিজিজ নামে একটি চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের
গো-খামারিরা। খানসামা উপজেলার গো-পালনকারী মোজাফফর হোসেন
জানালেন,তিনি এবার ১৩ টি গরু মোটাতাজা করণ করেছেন,আসন্ন
কোরবানী ঈদের জন্য। কিন্তু ইতোমধ্যে তার ৫টি গরু আক্রান্ত এই চর্মরোগ।
গরুগুলো কিভাবে হাটে বিক্রি করবেন,এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। গতবার
এই গরু মোটাতাজা প্রকল্প করে তিনি লাখ টাকা লাভ পেয়েছিেিলন।কিন্তু এবার
লোকসানের আশংকা করছেন তিনি।
তবে, সরজমিনে দেখা গেছে,এ রোগের সংক্রমণ এড়াতে এ অঞ্চলের প্রাণি সম্পদ
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দিন-রাত মাঠে কাজ করছেন। তারা বলছেন,এ
রোগে আক্রান্ত গবাদি-পশুর মাংস খাওয়া যায় এবং এ রোড় ছড়ায়রা মানুষের মাঝে।
প্রাণিবিদদের এ মন্তব্য সঠিক হোক এবং এ রোগ ত্রুত প্রসমিত হোক
এমনটাই প্রত্যাশা করছেন,গো-খামারিরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.