করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর সুদখোর এনজিও : কিস্তির চাপে কেউ পালাচ্ছে কেউ আত্মহত্যা করছে

এফ শাহজাহান : বাংলাদেশের মানুষ করোনাভাইরাসের ভয়ে এখনো বাড়ি ছেড়ে পালায়নি। করোনার ভয়ে কেউ আত্মহত্যাও করেনি। কিন্তু কিস্তি আদায়কারী এনজিও কর্মীদের ভয়ে ঘরবাড়ি সংসার ছেড়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ আত্মহত্যার পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। লকডাউনে আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া, অভাব অনটনে দিশেহারা অবস্থায় এনজির কিস্তির চাপ সইতে না পেরে এক হতভাগা আত্মহত্যা করে বলে গেলেন, কিস্তি ঠেকান মানুষ বাঁচান।


নওগাঁর রাণীনগরে ব্র্যাকের ঋণের কিস্তির চাপের কারণে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে জীবন দিলেন ছাইদুল ইসলাম নামের এক দিনমজুর। ছাইদুল ইসলাম রাণীনগরের বড়গাছা ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের মৃত-আয়েত আলী শেখের ছেলে।


রবিবার রাতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পর রেফার্ড দিলে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়ার পথে সোমবার রাতে মৃত্যু বরন করেন।


ছাইদুল ইসলামের ভাই রহিদুল ইসলাম জানান, ব্র্যাক থেকে ছাইদুল ১লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলো। প্রতি মাসে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার কথা ছিলো। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশ লকডাউন থাকার কারণে তাকে কয়েক মাস কোন কিস্তি দিতে হয়নি। কিন্তু গত শনিবার ব্র্যাক এনজিও কর্মীরা এসে ছাইদুলকে রবিবারে কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। রবিবার রাতে ছাইদুল গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।


বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ গ্রামে কিস্তি আদায়ের জন্য হানা দিচ্ছে প্রভাবশালী প্রথম সারির কয়েকটি এনজিও। ঐসব এনজির কর্মীরা নিজেদের চাকরী বাঁচাতে কিস্তি আদায়ের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এদের অত্যাচারে এবং কিস্তির জন্য বার বার চাপ দেওয়ায় অভাব-অনটনে জর্জরিত মানুষগুলো পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন।


বগুড়া সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় এনজিওর কিস্তি আদায়ের ভয়ংকর দৃশ্য। বগুড়া সদরের লাহিড়ী পাড়া ইউনিয়নের কয়েকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে গত ২ মাস ধরে তাদের কোন কাজ কর্ম নাই। এঅবস্থায় তারা যখন অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছেন,সেই সময় কয়েকটি এনজিও তাদের কিস্তির জন্য এমনভাবে চাপ দিচ্ছে যে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।


বগুড়া সদরের চন্ডিহারা এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী জানান, আমাদের কাছে করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর আতংকের নাম এনজিও। আমরা কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।


বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে এখন বিভিন্ন সুদাড়– এনজিও তাদের কিস্তির জন্য নতুন গজবের সৃষ্টি করেছে। সুদখোর দাদন ব্যবসার এনজিওর কর্মীদের ভয়ে। এনজিও কর্মী কিস্তির চাপে ঘর ছাড়া হাজারো মানুষ।


বগুড়ার স্থানীয় এবং জাতীয়ভাবে বিস্তুৃত কয়েকটি বড় এনজিও এই দু:সময়ে কিস্তি আদায়ের জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।জুন পর্যন্ত কিস্তি আদায় স্থগিত না রাখার সরকারি নির্দেশ থাকলেও তারা তা মানছেন না।


কিস্তি আদায়কারী এনজিও কর্মীদের এক জবাব,আমরা সরকারের টাকায় চলি না,তাই সরকারের নির্দেশের ধার ধারি না। আমরা চাকরী বাঁচাতে যে কোন কাজ করতে পারি। তাতে কে বাঁচলো আর কে মরলো তা দেখার বিষয় নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.