পলাশবাড়ীর প্রমীলা কৃতি ফুটবলার রেশমী আর নেই: ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া


আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর পল্লীর দরিদ্র
পরিবারের সন্তান কলেজ পড়ুয়া প্রমীলা কৃতি ফুটবলার রেশমী (১৬) আক্তার
সতীর্থ খেলোয়াড়দের কান্নার সাগরে ভাসিয়ে অকালেই পাড়ি জমালেন না
ফেরার দেশে।
উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের আমলাগাছী বাজার সন্ন্যিকটে আলাইপাড়া
গ্রামের দরিদ্র পরিবারের বাবা এরশাদুল ইসলাম ও মুক্তা বেগম দম্পতির মেয়ে
পলাশবাড়ী উপজেলা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির একজন প্রতিভাবান ফুটবলার
রেশমী আক্তার।

তার মা এবং বোন উভয়ই গার্মেন্টস কর্মি। চাকুরির সুবাদে তারা অনেক
আগে থেকেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।
সম্প্রতি সময় করোনার চলমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে খেলাধুলার পরিবেশ না
থাকায় বেশকিছু দিন আগে মা-বোনের সাথে একইসাথে থাকতে রেশমী
চট্টগ্রামে চলে যায়। রেশমী সেখানে লিভার জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর
অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থা আরো জটিল
হয়ে পড়ে।
শারীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে অবনতির এক পর্যায় গত ২৩ মে শনিবার বিকেলে
সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। করোনার এইসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা
বিপর্যস্ত থাকায় মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে না নিয়ে ওইদিনই বাদ মাগরিব
নামাজে জানাজা শেষে চট্টগ্রামেই তার লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
ছোটবেলা থেকেই রেশমী ফুটবল খেলার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। গ্রাম পর্যায়
টুকটাক এখানে-সেখানে খেলতে খেলতে একজন ফুটবল প্রেমী হিসেবে
ফুটবল খেলার প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠেন।
দশম শ্রেণীতে পড়ালেখার সময় রেশমীর ফুটবল খেলার বিষয়টি উপজেলা খেলোয়ার
কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক কৃতি ফুটবলার সুরুজ হক
লিটনের নজরে আসে। পরবর্তিতে তারই নিরলস অনুপ্রেরণায় রেশমী
সমিতিতে প্রমীলা ফুটবলার হিসেবে যোগ দেন।
মাত্র স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক রেশমী স্থানীয় ছাড়াও বিভিন্ন
সংস্থার হয়ে জেলা এবং জেলার বাইরে বিভাগীয় মাঠ পর্যায় একজন দুর্দান্ত
খেলোয়ার হিসেবে ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে নিজের একটি শক্ত অবস্থান গড়ে
তোলেন। নানা পর্যায় উল্লেখযোগ্য খেলা উপহার দেয়ায় তার কৃতিত্বের
স্বীকৃতি স্বরূপ ফুটবল প্রেমীসহ সর্বস্তরের ভুয়সী প্রশংসাসহ
বিভিন্ন মেডেল অর্জন ছাড়াও নানা পুরুস্কারে ভূষিত হন রেশমী।
একজন প্রমীলা ফুটবলার হিসেবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে রেশমী যথাক্রমে
গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া পরিদপ্তর তত্ত্বাবধানে এক বৎসর, স্পোর্টস ফর হোপ
এন্ড ইনডিপেনডেন্ট (ঝঐঊ ইঅঘএখঅউঊঝঐ) থেকে পরপর দু’দফায় পৃথক
মেয়াদে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ছিলেন। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়
ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত এমন বিশেষ ব্যক্তিবর্গের পৃথক এবং সম্মিলিত
অনুপ্রেরণায় রেশমী অন্যতম প্রতিভাবান একজন খেলোয়ার হিসেবে গড়ে
উঠছিলেন।
কিন্তু লিভার জন্ডিস তার এবং তার বাবা-মা-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও
শুভাকাঙ্খীদের ভবিষ্যত সব স্বপ্ন যেন ভেঙ্গে চুরমার করে দিলো। স্বপ্ন স্বপ্নই
রয়ে গেল। ভরা আকাশ থেকে তারা খসে পড়ার ন্যায় অঙ্কুরেই একটি উদীয়মান
তারকা ধপাস করে ঝড়ে গেল।
এদিকে গাইবান্ধা জেলা ফুটবল দলের প্রমিলা কৃতি ফুটবলারের অকাল
মৃত্যুতে ঝঋঈঅ ফুটবল কোচিং একাডেমি গাইবান্ধা, জেলা ফুটবল
খেলোয়াড় এসোসিয়েশন গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী ফুটবল কল্যাণ সমিতি ও
বাংলাদেশ ফুটবল উন্নয়ন সমিতি গাইবান্ধা জেলা, পলাশবাড়ী উপজেলা
খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি ছাড়াও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য

ক্লাব, সংস্থা-সংগঠন ও সচেতন ক্রীড়ামোদী রেশমীর বিদেহী আত্মার
মাগফিরাতসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পৃথক
বিবৃতি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.