জীব হত্যা মহাপাপ, রোহিঙ্গা হত্যায় সিদ্ধি লাভ

%e0%a7%a6%e0%a7%aeএশিয়ানবার্তা: সিরিয়ার শিশু আইলানের কথা আপনাদের মনে আছে বৈকি। যারা মনের মাঝে লিঙ্গভেদ এনে মনে করেন মুসলমান মাত্রই সন্ত্রাসী তাদের নাফ নদীতে ভেসে ওঠা শিশুটির নগ্ন ছবিটির দিকে একটু ভাল করে তাকিয়ে দেখার আকুল আবেদন জানাই। শিশুটি সন্ত্রাসী নয়। মানবশিশুটি তার মায়ের বুক আগলে ধরেও বেঁচে থাকতে পারেনি। এই কঠিন শীতে বরফ শীতল জলে তাকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। শিশুটির নাম জয়নাল। সে রোহিঙ্গা শিশু।

যেসব বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বলেন, ‘অহিংসা পরম ধর্ম, জীব হত্যা মহাপাপ, তারা এখন মানবশিশু হত্যায় মেতে উঠেছেন। নারী ধর্ষণ করছে তাদের সেনাবাহিনী, পিতার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তার শিশু কন্যাকে ধর্ষণের দৃশ্য দেখতে বাধ্য করছেন। হাজার হাজার ধর্ষিতা নারী রাখাইনের হাসপাতালগুলোতে যেয়ে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে মৃত্যুর উপত্যকায়।

গণহত্যা ও গণধর্ষণ থেকে রেহাই পেতে এমনি নির্যাতিত নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে একটি নৌকায় গুলি চালিয়েছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি)। গুলিতে তিনটি নৌকাডুবির ঘটনায় চার শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার দিনগত রাতে রাখাইনের মংডুর উত্তরাঞ্চলে নাফ নদীতে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার মিয়ানমার সময় সকাল ৭টার দিকে নাফ নদীর তীরে দুটি শিশু এবং একজন নারীর মরদেহ পড়েছিল।

এই যখন পরিস্থিতি তখন শান্তির বার্তা বাহক (!) বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কি বলছেন তা জেনে নেই মিয়ানমার টাইমস’এর একটি প্রতিবেদন থেকে।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে একটু প্রতিবাদ করেছেন। বিষয়টিকে নগ্ন হস্তক্ষেপ মনে করছেন, মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। রোববার ইয়াঙ্গুনে মহাবান্দুলা পার্কে এক সমাবেশে মিয়ানমার ন্যাশনাল মঙ্ক (ভিক্ষু) ইউনিয়নের সেক্রেটারি উ থু সাতেত্তা বলেছেন, আমাদের যা খুশি আমরা তাই করব। যদি আমাদের অস্ত্র হাতে নিতে হয় তাই নেব। তারা আমাদের জাতীয়তা নিয়ে অপমানসূচক বক্তব্য দিচ্ছে।১৫৩৮৪৪৯০থ১০৪৪৩৯৯৪০৯০২১২৭২থ৪৫৭৮১৫৮৭৮৫৪৫১৩৬৮০৩৩থড়

আরেক স্পষ্টভাষী বৌদ্ধ ভিক্ষুক হিসেবে পরিচিত ও মা বা থা উ উইরাথু’র সদস্য এমন একজন ভিক্ষু এক চিঠিতে বলেছেন, অপ্রিয় সত্য হচ্ছে কিছু মুসলিম দেশ অনেক টাকা খরচ করছে এবং বিভিন্ন কৌশলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছে।

মিয়ানমার ন্যাশনালিষ্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ও বৌদ্ধ নেতা কো নাউঙ নাউঙ ও মালয়েশিয়ার প্রধামন্ত্রীকে তার ভাষায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের সঠিক ইতিহাস জানুন, আমি বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই এবং তা হচ্ছে মিয়ানমারে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে এবং রোহিঙ্গা বলে কিছু নেই।

কো নাউঙ নাউঙ ও যা বলেননি তা হচ্ছে, ব্রিটিশরা ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা করলেও রোহিঙ্গাদের সে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেনি। তিনি আরো বলেন নি, ২২ হাজার বর্গমাইল এলাকা নিয়ে রোহিঙ্গারা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল এবং তা মিয়ানমার রাজা বোদাওফায়া দখল করে নেন। ইতিহাস থেকে আর একটি লাইন কো নাউঙ নাউঙ ও’কে মনে করিয়ে দেয়া যায় তা হচ্ছে ১৫৫৪ সালে আরকান মুদ্রার প্রচলন ঘটে যাতে আরবী ও ফার্সী ভাষায় ক্যালিওগ্রাফি অঙ্কিত ছিল।

ইতিহাসের কথা কে মনে রাখে। এখন যা হচ্ছে শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সাং সুচির সরকারের শাসনামলে তাতে শত শত বছর ধরে দেশটিতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে কেন বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন? বিদেশী সাংবাদিক ও ত্রাণ কর্মীদের রাখাইন অঞ্চলে না ঢুকতে দিয়ে মিয়ামার সেনাবাহিনী যে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তার চিহ্ন তো প্রযুক্তির এই যুগে স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ছে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এরপরও কি বলবেন, অহিংসা পরম ধর্ম, জীব হত্যা মহাপাপ, নাকি রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যা মহাপাপের মধ্যে পড়ে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.