দুর্যোগ মোকাবিলা আইন করে সব পরীক্ষা বন্ধের দাবি ভারতের ছাত্র সংগঠনগুলোর

ফকীর শাহ < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক > করোনা পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলা আইন প্রয়োগ করে পরীক্ষা আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে ভারতের এআইএসএ নামের একটি ছাত্র সংগঠন। তাদের এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে অন্যান ছাত্রসংগঠন।

ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, এই ভয়ঙ্কর সময়ে জোর করে পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়ায় যে কত জনের স্বপ্ন শেষ হতে বসেছে, সেই হুঁশ শিক্ষামন্ত্রীর নেই। এ বিষয়ে অন্তত একবার ছাত্র প্রতিনিধিদের মতামত শোনার আর্জি কেন্দ্রের কাছে বহু বার জানিয়েছি আমরা। কিন্তু সেই সময় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের কারও হয়নি।”

সেপ্টেম্বরে পরীক্ষার প্রতিবাদে কলকাতায় চার বাম ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি এআইএসএ এবং ছাত্র পরিষদও মিছিলে যোগ দিয়েছে । আর শনিবার প্রত্যেক মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে ছাত্র সংগঠন এআইএসএ সভাপতি এন সাই বালাজির আর্জি, “পড়ুয়া ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার খাতিরে পরীক্ষা আটকাতে দুর্যোগ মোকাবিলা আইন প্রয়োগ করুক রাজ্যগুলি।”

বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রহ্মণ্যন স্বামীরও পরামর্শ, “দুর্যোগ মোকাবিলা আইন প্রয়োগের পথে হাঁটতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীরা। বলতে পারেন যে, পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের যে ভিড় হবে, তা করোনা-পরিস্থিতিকে আরও বিগড়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।” স্বামীর অবশ্য এও দাবি, ছয় মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টির মধ্যে ঢুকে না-পড়লে, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা পিছোনোর একটা শেষ চেষ্টা করে দেখতেন তিনি।

পড়ুয়াদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এমন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেওয়া নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গাঁন্ধীর অভিযোগ, নতুন সংক্রমণের সংখ্যা বিচারে ভারত যখন শীর্ষে, তখন তার মধ্যেও পড়ুয়াদের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্র।

শিক্ষাথর্ীদেরও প্রশ্ন, প্রতিদিন যেখানে গড় সংক্রমণের সংখ্যা ৭৫ হাজারের উপরে, মৃত্যুর সংখ্যাও ১ হাজার পার, সেখানে কী করে পরীক্ষার জেদ ধরে বসে আছে কেন্দ্র?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.