করোনার ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন: মায়ের পেটেও আক্রান্ত হচ্ছে সন্তান

এফ শাহজাহান < এশিয়ানবার্তা ডেস্ক > গর্ভবতী মা যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন,তাহলে তার পেটে থাকা সন্তানও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে । এবিষয়টা নিয়ে যখন ব্যাপক গবেষণা চলছে,ঠিক সেই সময়ে সত্যি সত্যি মায়ের পেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মায়ের পেটের শিশু। করোনা ভাইরাসের এধরনের সংক্রমনকে চিকিৎসকরা বলছেন ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন ।

করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ কীভাবে সংক্রামিত হচ্ছে, সেই বিষয়ে গবেষণা চলছে এখনও। প্রত্যেকদিনই উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এর আগেও মায়ের গর্ভে থেকে সন্তানের শরীরে করোনা সংক্রমণের ঘটনা শোনা গিয়েছে, তবে এবার ভারতে প্রথমবার এই ধরনের ঘটনা ঘটল। পুনের এক হাসপাতালে মায়ের থেকে করোনা সংক্রমণ হল গর্ভজাত সন্তানের।

ভারতের পুনের সাসুন জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকেই তৈরি হয়েছে নতুন আশঙ্কা।

এই ধরনের সংক্রমণকে বলা হচ্ছে ‘ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন।’ অর্থাৎ সন্তান যখন ইউটেরাসে রয়েছে, তখন মা যদি করোনা আক্রান্ত হন তাহলে মায়ের থেকে প্লাসেন্টার দ্বারা সন্তানের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। প্লাসেন্টা হল এমন একটি অংশ যা গর্ভাবস্থায় তৈরি হয় সন্তানকে অক্সিজেন ও পুষ্টি জোগানির জন্য।

সাসুন জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিভাগের এক চিকিৎসক ড. আরতি কিনিকার সংবাদসংস্থাকে বলেন, সাধারণত সন্তান মায়ের থেকে সংক্রামিত হয় জন্মের পর। অর্থাৎ মা আক্রান্ত থাকলে, বুকের দুধ খেতে গিয়ে বা অন্য কোনও ভাবে সংস্পর্শে আসলে করোনা আক্রান্ত হতে পারে সন্তান। কিন্তু ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশনের অর্থ হল, প্লাসেন্টার দ্বারা গর্ভের মধ্যেই সংক্রমণ। মায়ের উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক তাঁর থেকে সন্তানের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। চিকিৎসক জানিয়েছেন সন্তানের জন্মের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে মায়ের শরীরে উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তাই এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল।

আইসিএমআরের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলাকে সন্তানের জন্ম দেওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে করোনা টেস্ট করতে হয়। এক্ষেত্রেও করা হয়েছিল। কিন্তু মায়ের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। সন্তানের জন্মের পর পরীক্ষা করলে দেখা যায় তার শরীরে রয়েছে ভাইরাসের উপস্থিতি। ওই সদ্যজাত শিশুর শরীরে ভয়ঙ্কর উপসর্গ দেখা দিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.