রাবি শিক্ষিকার আত্মহত্যার ঘটনায় সহকর্মী বহিষ্কার

01রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা আকতার জাহান জলির আত্মহত্যার ঘটনায় সহকর্মী আতিকুর রহমান রাজাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মঙ্গলবারের এই সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হলের নামের আগে ‘শেখ’ যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে হলের সব দাপ্তরিক যাবতীয় কাগজপত্র থেকে হলের নেমপ্লেটে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল’ ব্যবহার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, আকতার জাহানের আত্মহত্যার প্ররোচনায় দায়ের করা মামলায় তার সহকর্মী আতিকুর রহমান রাজা গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক গ্রেফতার হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নিয়ম অনুসারে আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর আকতার জাহান আত্মহত্যা মামলায় আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সে সময় পুলিশ দাবি করে, আকতার জাহানের সঙ্গে আতিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ওই সিন্ডিকেট সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে আকতার জাহানের ওপর নির্যাতন নিয়ে গণমাধ্যমে ওঠা নানা অভিযোগে তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ওই সিন্ডিকেট সদস্য জানান, তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ অভিযোগ কমিটির তাদের কার্যক্রমে এ অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করায় তানভীরের কার্যকলাপ তদন্তে এ কমিটি গঠন করা হয়।

পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলামকে প্রধান এবং সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমা জোহরা হাবিব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসিম রেজাকে সদস্য করে এই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানকে (৪৫) মৃত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সেখানে ওই শিক্ষকের হাতে লেখা একটা আত্মহত্যার (সুইসাইড) নোট পাওয়া যায়।

সুইসাইড নোটে শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন আকতার জাহান। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘সোয়াদকে যেন তার বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যেকোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে।’

এদিনই অধ্যাপক আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা অভিযোগে মামলা করেন তার ভাই মো. কামরুল হাসান।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে আকতার জাহানের সঙ্গে তানভীর আহমদের বিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকেই আকতার জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষে একাই থাকতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.